৪৭তম বিসিএসে পুলিশ ক্যাডারে দেশসেরা বাচ্চু রহমান
বাবা ছিলেন সাধারণ আনসার সদস্য। ছোটবেলা থেকেই বাবার ইউনিফর্ম, বুট আর বেল্ট দেখে বড় হওয়া এবং পুলিশ হওয়ার স্বপ্ন দেখা। সেই স্বপ্নকে ছোঁয়া তো বটেই, শ্রম আর অধ্যবসায় দিয়ে নিজেকে নিয়ে গেছেন এক অনন্য উচ্চতায়।
৪৭তম বিসিএস পরীক্ষায় পুলিশ ক্যাডারে সারা দেশে প্রথম (মেধা তালিকায় ১ম) স্থান অধিকার করেছেন যশোরের কেশবপুর উপজেলার কানাইডাঙ্গা গ্রামের নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান বাচ্চু রহমান। তার এই অভাবনীয় সাফল্যে পরিবারসহ পুরো গ্রামে বইছে খুশির জোয়ার।
বাচ্চু রহমান কানাইডাঙ্গা গ্রামের আনসার সদস্য নজরুল ইসলাম ও গৃহিণী বিলকিস বেগম দম্পতির ছোট ছেলে। সরকারি চাকরির সীমিত আয়ে দুই সন্তানকে উচ্চশিক্ষিত করার পথটি ছিল চরম যুদ্ধ ও অভাব-অনটনের। তবে শত কষ্টের মাঝেও হাল ছাড়েননি বাচ্চু। ২০১৫ সালে কানাইডাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ২০১৭ সালে পাঁজিয়া মহাবিদ্যালয় থেকে এইচএসসি পাস করেন তিনি। এরপর ২০১৮ সালে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগে।
তার বিসিএস জয়ের এই যাত্রা সহজ ছিল না। ৪৫তম বিসিএসের প্রিলিমিনারিতেই বাদ পড়েছিলেন। এরপরও দমে না গিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যান এবং ৪৯তম বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হন। সর্বশেষ গত ২৮ জুন প্রকাশিত ৪৭তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফলে নিজের কাঙ্ক্ষিত পুলিশ ক্যাডারে প্রথম স্থান অধিকার করে বাজিমাত করেন তিনি।
বাচ্চু রহমান বলেন, প্রথাগত মুখস্থবিদ্যার ওপর ভরসা না করে যেকোনো বিষয় গভীরভাবে বোঝার চেষ্টা করতেন তিনি। গৎবাঁধা গাইডের বাইরে গিয়ে নিয়মিত জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পত্রিকা পড়ার অভ্যাস তাকে অন্যদের চেয়ে এগিয়ে রেখেছে।
নিজের অনুভূতির কথা জানিয়ে বাচ্চু বলেন, পদ বা পদবি নয়, আমি একজন সৎ, দক্ষ ও মানবিক পুলিশ কর্মকর্তা হতে চাই। ক্যাম্পাসজীবনে নিয়মিত পত্রিকা পড়ার সময় নারী নির্যাতন, ধর্ষণ, মাদক ও সাইবার অপরাধের চিত্র দেখে কষ্ট পেতাম। তখন থেকেই এগুলোর বিরুদ্ধে কাজ করার ইচ্ছা জাগে। মানুষ বিপদে পড়লে সাধারণত ডাক্তার বা পুলিশের কাছে যায়। আমি এমনভাবে দায়িত্ব পালন করতে চাই, যাতে ভুক্তভোগী মানুষ পুলিশের প্রতি পূর্ণ আস্থা ফিরে পায়।
কানাইডাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুস সবুর বলেন, ব্যর্থতার স্তূপ ডিঙিয়ে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে উঠে আসা বাচ্চুর এই অনন্য কৃতিত্বে আজ পুরো কেশবপুরবাসী গর্বিত। তার এই সাফল্য প্রমাণ করে, সঠিক কৌশল আর ধৈর্য থাকলে যেকোনো বড় স্বপ্নই ছোঁয়া সম্ভব।

ইনামুল হাসান, যশোর (মনিরামপুর-কেশবপুর)