তুচ্ছ ঘটনায় ভাড়াটিয়ার ঘুষিতে চোখ হারানোর ঝুঁকিতে বাড়িওয়ালা
ঢাকা জেলার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে বাসার সামনে ময়লা ফেলাকে কেন্দ্র করে বাকবিতণ্ডার জেরে ভাড়াটিয়া কর্তৃক বাড়িওয়ালাকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে। ভাড়াটিয়ার ঘুষিতে বাড়িওয়ালার চোখের চশমার কাচ ভেঙে ভেতরে ঢুকে গেছে। আজ সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে এই ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের ইকুরিয়া টিলাবাড়ী এলাকার বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী বাড়িওয়ালার মেয়ে ফাহাদিয়া আক্তার মিতু অভিযোগ করেন, তাদের বাড়ির ভাড়াটিয়া মুজিবর রহমান দীর্ঘদিন ধরে বাড়ির সামনে ময়লা ফেলতেন। এ নিয়ে অন্যান্য ভাড়াটিয়াদের পক্ষ থেকে অভিযোগ আসার পর তাকে একাধিকবার সতর্ক করা হলেও তিনি তা বরাবরই উপেক্ষা করে আসছিলেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, আজ সোমবার দুপুর আনুমানিক ১টা ১০ মিনিটে ফাহাদিয়া আক্তারের বাবা মো. শফিকুল ইসলাম নামাজ পড়ার উদ্দেশ্যে মসজিদে যাওয়ার সময় বাসার সামনে ময়লা দেখতে পান। এ বিষয়ে তিনি ভাড়াটিয়া মুজিবর রহমানকে প্রশ্ন করলে দুজনের মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। এর একপর্যায়ে অভিযুক্ত মুজিবর রহমান ক্ষিপ্ত হয়ে শফিকুল ইসলামের মুখ লক্ষ্য করে সজোরে ঘুষি মারেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ওই ঘুষির আঘাতে শফিকুল ইসলামের চোখে থাকা চশমার বাম পাশের কাচ ভেঙে চোখের ভেতরে ঢুকে পড়ে। এতে তার চোখে গুরুতর জখম হয় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে উপর্যুপরি মারধরের কারণে তিনি রক্তাক্ত জখম হন।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, শফিকুল ইসলামের চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও আশপাশের অন্য ভাড়াটিয়ারা ছুটে এলে অভিযুক্ত মুজিবর রহমান তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
পরে গুরুতর আহত শফিকুল ইসলামকে উদ্ধার করে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁর চোখের অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য শ্যামলী চক্ষু হাসপাতালে রেফার করেন। পরে তাকে শ্যামলী চক্ষু হাসপাতালেই ভর্তি করা হয়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, রক্তাক্ত শফিকুল ইসলামের চিকিৎসা-সংক্রান্ত ব্যস্ততা এবং পারিবারিকভাবে আলোচনার কারণে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক