লামা-আলীকদম সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক, বিভিন্ন স্থানে পর্যটক আটকা
বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমায় বান্দরবান জেলার বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। প্লাবিত সড়ক থেকে পানি নেমে যাওয়ায় আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল থেকে লামা-আলীকদম সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। তবে অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন সড়কে পাহাড় ধসের কারণে এখনও থানচির সাথে সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে।
বান্দরবান জেলা আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তা সন্তোষ মন্ডল বলেন, বিশেষ করে গত ছয় ঘণ্টায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ আগের চেয়ে কিছুটা কমেছে। আজ সকাল ৯টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় বান্দরবান জেলায় ১১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। তবে ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড় ধসে প্রাণহানির শঙ্কা এখনও কাটেনি। তাই ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, কয়েকদিনের টানা বর্ষণে বান্দরবান জেলার রুমা-থানচি, লামা-সুয়ালক সড়কসহ অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোর বিভিন্ন স্থানে ছোটখাটো পাহাড় ধসে পড়েছে। অব্যাহত বর্ষণে সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানিও বৃদ্ধি পেয়েছে।
এদিকে, বৈরী আবহাওয়ায় টানা বর্ষণে পর্যটক ও জনসাধারণের জানমালের নিরাপত্তা বিবেচনায় আগামী ১০ জুলাই পর্যন্ত জেলার সবগুলো পর্যটনস্পট বন্ধ ঘোষণা করেছে প্রশাসন। তবে এর আগেই দুর্গম এলাকায় বেড়াতে গিয়ে বেশ কিছু পর্যটক আটকা পড়েছেন।
থানচি উপজেলা ট্যুরিস্ট গাইড সমিতির সাধারণ সম্পাদক ক্লাইমেন ত্রিপুরা বলেন, থানচির নাফাকুমে ৬৯ জন এবং জিন্না পাড়ায় তিনজন গাইডসহ ২১ জন পর্যটক আটকে পড়ার সুনির্দিষ্ট তথ্য রয়েছে। এছাড়াও থানচির বিভিন্ন দুর্গম স্থানে আরও পর্যটক আটকা থাকতে পারেন বলে তারা আশঙ্কা করছেন।
এ বিষয়ে বান্দরবানের জেলা প্রশাসক সানিউল ফেরদৌস বলেন, সার্বিক পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা বিবেচনা করে আগামী ১০ জুলাই পর্যন্ত জেলার সব পর্যটন কেন্দ্র, ঝর্ণা, পাহাড়ি ট্রেইল, নদীপথ, দুর্গম এলাকা ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে পর্যটক, ট্যুর অপারেটরসহ সর্বসাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকবে। আটকে পড়া পর্যটকদের বিষয়ে প্রশাসন খোঁজখবর রাখছে এবং স্থানীয় সবাইকে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

আলাউদ্দিন শাহরিয়ার, বান্দরবান