বর্ষা এলেই নির্ঘুম রাত কাটে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ২১ পরিবারের
আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে ভূমি ও গৃহহীন ২১টি পরিবার পেয়েছিল স্থায়ী মাথা গোঁজার ঠাঁই। ২১ পরিবারের নিশ্চিন্তে বসবাস করার কথা ছিল ঘরগুলোতে। কিন্তু এ সুখ আর বেশি দিন স্থায়ী হয়নি।
রাঙামাটির কাউখালী উপজেলা সদরের নিকটবর্তী ইসামতি খালের তীরে তৈরি ঘরগুলোর বাসিন্দাদের এখন দুর্ভোগে দিন কাটছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ছাড়া ইসামতি খালের তীরে এই ঘরগুলো তৈরির ফলে প্রতি বর্ষায় পাহাড়ি ঢলে প্লাবিল হচ্ছে ঘরগুলো। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এই অসহায় পরিবারগুলো। ২০২৪ সালে দুই দফা ও ২০২৫ সালে তিন দফায় আকস্মিক পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত হয় ঘরগুলো। প্রতিবারই সব সম্বল হারিয়েছে পরিবারগুলো।
গত রোববার থেকে টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে আবারও প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইসামতি খালে ধীরে ধীরে বাড়ছে পানি। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে যেকোনো সময় ঘরগুলোতে ঢুকে পড়তে পারে পানি। এমন শঙ্কায় ঘরগুলো সোমবার ও মঙ্গলবার দুই দফায় পরিদর্শন করে আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার অনুরোধ জানিয়ে এসেছেন কাউখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রাজিব হোসেন।
মো. রাজিব হোসেন বলেন, উপজেলা প্রশাসন থেকে সর্বোচ্চ নজরদারি তাদের বিষয়ে রাখছি। আশা করছি পাহাড়ি ঢল হলেও বড় ক্ষতি এড়াতে পারব। তাদের প্রয়োজনীয় খাবারেরও ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
স্থানীয় সমাজকর্মী মেহেদী হাসান বলেন, সরেজমিন গিয়ে দেখলে বোঝা যাবে ঘরগুলোর মানুষের জীবনের নিরাপত্তা কতটুকু হতাশাজনক। বৃষ্টি যদি এক দিন গড়িয়ে দুদিনে যায় এখানকার বসবাসরত মানুষের ঘুম থাকে না চোখে। নদীর পাহাড়ি ঢলে কিছু বুঝে উঠার আগেই তাদের ঘরবাড়ি ডুবিয়ে দেয়। নির্মাণের সময় যদি পরিকল্পনা করে নির্মাণ করা হতো তাহলে এই ভোগান্তিতে পড়তে হতো না অসহায় মানুষগুলোর।
বসবাসরত বাসিন্দা ও কলেজছাত্র রাশেদ বলেন, আমরা সরকারের কাছ থেকে চেয়েছিলাম মাথা গোঁজার ঠাঁই। সরকার আমাদের ঘর দিয়েছে কিন্তু জীবনের নিরাপত্তা হারিয়ে গেছে, ঘরের জায়গাটা ভুল নির্বাচনের কারণে আমাদের এই দুর্ভোগ। শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে বেশি কষ্টে পড়ে যাই আমরা।
এ বিষয়ে কাউখালীর সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী আতিকুর রহমান বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরসহ ইছামতি খালের পাশে ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে বড় একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। রাঙামাটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী তনয় ত্রিপুরার বরাত দিয়ে তিনি জানান, এরই মধ্যে কাজ পাওয়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ওয়ার্ক অর্ডার দেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে আশা করছি আশ্রয়ণ প্রকল্পের এই ২১ পরিবার নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারবে।

জয়নাল আবেদীন, রাঙামাটি (কাউখালী-নানিয়ারচর)