দেশজুড়ে ভারি বৃষ্টি, চার বিভাগে আকস্মিক বন্যার পূর্বাভাস
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে দেশজুড়ে টানা তিন দিন বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। দেশের কোথাও কোথাও আবার ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টি হয়েছে। নিম্নচাপ ও টানা বৃষ্টিার কারণে দেশের চার বিভাগের কয়েকটি নদীর পানি দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে। রাজধানী ঢাকা ও বন্দরনগরী চট্টগ্রামসহ বেশ কয়েকটি জেলাশহরে জলজট সৃষ্টি হয়েছে। অপরদিকে দেশজুড়ে ভারি বৃষ্টি ও বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপের ফলে চার বিভাগে আকস্মিক বন্যার পূর্বাভাসের কথা জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
আগামী রোববার (১২ জুলাই) পর্যন্ত আট বিভাগেই ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টির সতর্কবার্তা দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। অপরদিকে ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টির প্রভাবে সিলেট, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় আকস্মিক বন্যা দেখা দিতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি)। তবে সম্ভাব্য এ বন্যা তিন দিনের বেশি স্থায়ী হবে না। আগামী শনিবার থেকে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। ইতোমধ্যে দেশের দক্ষিণ–পূর্ব ও উত্তর–পূর্বাঞ্চলের তিন নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. শাহীনুল ইসলাম বলেন, নিম্নচাপ এখন না থাকলেও এর প্রভাব কিছুটা রয়েছে। এখন যে বৃষ্টি হচ্ছে, তা বর্ষা মৌসুমের স্বাভাবিক বৃষ্টি। আর বায়ুতাপের তারতম্যের কারণে বাতাস বইছে বেশি। বৃষ্টিও ঝরছে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি। আগামী চার দিন সীমান্তসংলগ্ন ভারতীয় উজান এলাকায় ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয় চট্টগ্রামের আম বাগানে ২৭৭ মিলিমিটার। এছাড়া বান্দরবানে ২১০ মিলিমিটার, কিশোরগঞ্জের নিকলীতে ২৩০ মিলিমিটার, ময়মনসিংহে ১৭৫ মিলিমিটার, মৌলভীবাজার ১৬০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়।
তিন নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে, বন্যার আশঙ্কা
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান বলেন, আগামী ৭২ ঘণ্টায় ভারি বৃষ্টির কারণে উত্তর-পূর্ব, পূর্ব, দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি নদীর পানি দ্রুত বাড়তে পারে। এতে সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোনা, শেরপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম, ফেনী, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, নীলফামারী, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের কিছু এলাকায় স্বল্পমেয়াদি আকস্মিক বন্যা দেখা দিতে পারে। এমন পরিস্থিতি প্রায় তিন দিন থাকতে পারে। এরপর, অর্থাৎ শনিবার থেকে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বান্দরবানের সাঙ্গু নদ, কক্সবাজারের মাতামুহুরী নদী ও হবিগঞ্জে খোয়াই নদের পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া বর্তমানে দেশের সব প্রধান নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে তিস্তা নদীর পানি আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক