মাদারীপুরে থানার গ্রিল ভেঙে পালানো সেই নারী আসামি ঢাকায় গ্রেপ্তার
মাদারীপুর সদর থানার অস্থায়ী কার্যালয়ের জানালার গ্রিল ভেঙে পালিয়ে যাওয়া চাঞ্চল্যকর নারী আসামি হাসিনা বেগমকে (৩৫) অবশেষে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার (১০ জুলাই) রাতে রাজধানীর কেরানীগঞ্জ এলাকায় পুলিশ ও র্যাবের একটি যৌথ দল বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।
হাসিনা বেগম মাদারীপুর পৌরসভাধীন থানতলী এলাকার হবি হাওলাদারের মেয়ে এবং সদর উপজেলার ঝাউদি ইউনিয়নের কালাইমারা এলাকার আল-আমিনের স্ত্রী। থানা হেফাজত থেকে আসামি পালানোর ঘটনায় ইতোমধ্যে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে দুই পুলিশ সদস্যকে ক্লোজড করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার রাতে অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে হাসিনা বেগমকে আটক করেন সদর মডেল থানাধীন ইটেরপুল পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মোকসেদুর রহমান। আটকের পর তাকে মাদারীপুর সদর মডেল থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সদর থানার মূল ভবনটি বর্তমানে নির্মাণাধীন থাকায় অস্থায়ীভাবে ওসির বাসভবনের নিচতলায় থানার সার্বিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সেখানে আসামিদের রাখার জন্য স্থায়ী কোনো হাজতখানা না থাকায় বারান্দার একটি কক্ষে পুলিশি হেফাজতে হাসিনাকে রাখা হয়েছিল। কিন্তু গত শুক্রবার ভোররাতের দিকে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের চোখ ফাঁকি দিয়ে সুযোগ বুঝে ওই কক্ষের জানালার গ্রিল ভেঙে কৌশলে পালিয়ে যান তিনি।
শুক্রবার সকালে থানা হেফাজত থেকে নারী আসামি পালানোর ঘটনাটি জানাজানি হলে জেলা পুলিশে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক ও বৃহস্পতিবার রাতের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রমজান আলী সজলসহ দুই পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করেন জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. হাবিবুর রহমান।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাদারীপুরের পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান বলেন, পালিয়ে যাওয়া নারী আসামিকে ঢাকা থেকে যৌথ অভিযানের মাধ্যমে দ্রুত গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে থানা হেফাজত থেকে আসামি পালানোর পুরো বিষয়টি সুনির্দিষ্টভাবে তদন্ত করে দেখার জন্য অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও সদর সার্কেল) ফারিহা রফিক ভাবনাকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, কমিটিকে আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে এ ঘটনার পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। এই ঘটনায় কারও কোনো অবহেলা বা গাফিলতি প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এম. আর. মুর্তজা, মাদারীপুর