কচ্ছপগতিতে কমছে বন্যার পানি, সাতকানিয়ায় সীমাহীন দুর্ভোগ
টানা কয়েক দিনের বন্যার পর চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় পানি কচ্ছপ গতিতে কমতে শুরু করেছে। সাতকানিয়া–বাঁশখালী সড়ক থেকে পানি নেমে যাওয়ায় যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। এছাড়া কিছু কিছু গ্রামীণ সড়কও পানিমুক্ত হয়েছে।
তবে চট্টগ্রাম–বান্দরবান মহাসড়কের সাতকানিয়ার সত্যপীরের দরগা এলাকায় পানি সামান্য কমায় সীমিত পরিসরে যান চলাচল করছে। অপরদিকে উপজেলার সোনাকানিয়া, ছদাহা, মাদার্শা, কেঁওচিয়া, কাঞ্চনা, আমিলাইশ এবং সাতকানিয়া পৌরসভার কয়েকটি ওয়ার্ডে বন্যার পানি কিছুটা কমেছে। তবে উপজেলার অন্যান্য নিম্নাঞ্চলে এখনো পানি তেমন কমেনি। অনেক পরিবার এখনো পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছে। খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর সংকট তাদের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মাহমুদুল হাসান জানান, সরকারের পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত ১৭৫ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এসব ত্রাণসামগ্রী পর্যায়ক্রমে বন্যাদুর্গত মানুষের মাঝে বিতরণ করা হচ্ছে। উদ্ধার ও ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সার্বিক সহযোগিতা করছে।
কেঁওচিয়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মহসিন বলেন, “ইউনিয়নের কিছু এলাকায় পানি কমলেও অনেক নিম্নাঞ্চল এখনো প্লাবিত। মানুষ ঘরে ফিরতে শুরু করলেও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা এখনো ফেরেনি। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য আরও ত্রাণ ও পুনর্বাসন সহায়তা প্রয়োজন।”
স্থানীয়দের আশা, নতুন করে ভারি বৃষ্টি না হলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বন্যা পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে।
তবে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, বসতঘর ও কৃষিজমি পুনর্বাসনে দ্রুত সরকারি উদ্যোগের দাবি জানিয়েছেন তারা।

শহীদুল ইসলাম বাবর, দক্ষিণ চট্টগ্রাম