চাঁদপুরে সড়ক অবরোধ করে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি
বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার মধ্যেও এইচএসসি পরীক্ষা গ্রহণ এবং পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ের প্রশ্নপত্রে ভুল ও অতিরিক্ত কঠিন প্রশ্ন থাকার অভিযোগে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগ দাবি করে বিক্ষোভ করেছেন চাঁদপুরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। আজ মঙ্গলবার (১৩ জুলাই) বিকেলে চাঁদপুর বাসস্ট্যান্ড মোড়ে প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন তারা।
এ সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ‘দফা এক, দাবি এক, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ’, ‘তুমি কে, আমি কে—ফার্মের মুরগি’, ‘আপস না, সংগ্রাম-সংগ্রাম, সংগ্রাম’ এবং ‘ভুয়া ভুয়া’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে চারপাশ উত্তাল করে তোলেন।
বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, অত্যন্ত প্রতিকূল ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেও জোরপূর্বক পরীক্ষা নেওয়ায় তারা চরম দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন। এর ওপর পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ের প্রশ্নপত্রে ভুল এবং অস্বাভাবিক কঠিন প্রশ্ন থাকায় পরীক্ষার্থীরা বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। তাদের দাবি, অভিন্ন প্রশ্নপত্রও আগের বছরগুলোর তুলনায় অনেক বেশি কঠিন ছিল।
ড্যাফোডিল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী জুনায়েদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষার্থীদের কথা মোটেও বিবেচনা করেননি। তিনি নিজের একমুখী সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরীক্ষা নিয়েছেন। একই প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে সেটি হয়নি। এখন আমরা যদি ফেল করি, তবে এর দায় কি শিক্ষামন্ত্রী নিজে নেবেন?
আরেক শিক্ষার্থী তাহসিন সিদ্দিকী বলেন, আমাদের একটাই দাবি—শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তিনি শিক্ষার্থীদের জন্য কার্যকর কোনো উদ্যোগ নিতে পারেননি। আমরা চাই না তার কারণে আর কোনো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ এভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হোক।
এদিকে ব্যস্ততম চাঁদপুর বাসস্ট্যান্ড মোড়ে শিক্ষার্থীদের এই সড়ক অবরোধের কারণে চাঁদপুর-কুমিল্লা মহাসড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে সাধারণ যাত্রী ও পথচারীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় এবং উপায় না পেয়ে অনেকেই যানবাহন থেকে নেমে হেঁটে নিজ নিজ গন্তব্যে রওনা দেন।
চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান জানান, শিক্ষার্থীরা এক ঘণ্টারও কম সময় সড়কের একপাশে অবস্থান করে শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন। সেখানে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। আন্দোলনের কারণে সাময়িক যানজট সৃষ্টি হলেও পুলিশের তৎপরতায় অল্প সময়ের মধ্যেই পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে আসে।

শরীফুল ইসলাম, চাঁদপুর