কুমারখালীতে নৈশপ্রহরীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে এক নৈশপ্রহরীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। উপজেলার চাপড়া ইউনিয়নের উত্তরপাড় সাঁওতা গ্রাম থেকে আজ বুধবার (১৫ জুলাই) বিকেলে এই মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
আজ বিকেল ৩টার দিকে সড়কের ধারের মরা কালিগঙ্গা নদীতে বাদশা সেখ (৪০) নামে এই নৈশ্যপ্রহরীর অর্ধগলিত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা। পরে পুলিশ ও স্বজনদের খবর দেয় তারা। খবর পেয়ে পুলিশ এসে মরদেহটি উদ্ধার করে।
নিহত বাদশা চাপড়া ইউনিয়নের সাঁওতা গ্রামের মৃত আফতাব শেখের ছেলে। তিনি কালিগঙ্গা নদীতে রাতে মাছ পাহারার কাজ করতেন।
স্বজনদের দাবি, পূর্বশত্রুতার জেরে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরা বাদশাকে হত্যা করেছে। পাঁচ দিন ধরে তিনি নদী থেকে বাড়িতে ফেরেননি। সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও স্বজনরা তার সন্ধান পায়নি। এরপর আজ বিকেলে নদীর ধারে স্থানীয় এক নারী ঘাস কাটতে গিয়ে মরদেহটি দেখতে পান।
নিহত বাদশার স্ত্রী সালমা খাতুন আহাজারি করতে করতে বলেন, ‘রাতে নদীতে মাছ পাহারা দিত সে। কয়েকদিন পরপর বাড়িতে আসত। কিন্তু পাঁচ দিন ধরে সে বাড়িতে আসেনি। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাকে পাইনি। এর আগে সে পাঁচ দিন, সাত দিন, কখনও এক মাস পরে বাড়িতে আসত। সেজন্য থানায় জানাইনি।’
স্ত্রী সালমা খাতুনের দাবি, পূর্বশত্রুতার জেরে তার স্বামী বাদশাকে হত্যা করা হয়েছে। এর সঠিক বিচার চান তিনি।
স্থানীয়রা জানায়, বাদশা নদীতে মাছ পাহারা দিতেন। মাঝেমধ্যে তিনি হারিয়ে যেতেন। এখন কীভাবে কী হলো তা আল্লাহ ভালো জানেন। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করুক।
কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন বলেন, বাদশা নামে এক নৈশপ্রহরীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। মরদেহটি অর্ধগলিত হওয়ায় আঘাতের ক্ষত আছে কি না, তা বুঝা যাচ্ছে না। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এলে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।

এম আর নয়ন, কুষ্টিয়া (কুমারখালী-খোকসা)