ফটিকছড়িতে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার সদর দপ্তর যৌক্তিক স্থানে স্থাপনের দাবিতে আজ বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালিত হচ্ছে। হরতালের প্রভাবে উপজেলার নারায়ণহাট, দাঁতমারা ও বাগানবাজার ইউনিয়নে যান চলাচল ও ব্যবসা-বাণিজ্যে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকে নারায়ণহাট, দাঁতমারা, শান্তিরহাট, হেয়াঁকো, চিকনছড়া ও বাগানবাজার এলাকার অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। তবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ফার্মেসি ও ক্লিনিক এই হরতালের আওতামুক্ত রয়েছে।
হরতালের কারণে ঢাকা-ফেনী-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়ক এবং পেলাগাজি দিঘী-হেয়াঁকো সড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে বাস, ট্রাক, সিএনজি অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন সড়কে আটকা পড়ে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
এদিকে, বালুটিলা বাজার, চিকনছড়া বাজার, গার্ডের দোকান, হেয়াঁকো, দাঁতমারা, শান্তিরহাট ও নারায়ণহাট এলাকায় আন্দোলনকারীদের পিকেটিং, বিক্ষোভ ও মিছিল করতে দেখা গেছে। তবে বেলা ১১টায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কোথাও কোনো ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, সংঘর্ষ বা আটকের মতো ঘটনা ঘটেনি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কের মোড়ে মোড়ে ভূজপুর থানা পুলিশের একাধিক টিম সতর্ক অবস্থানে থেকে দায়িত্ব পালন করছে।
আন্দোলনকারীরা জানান, নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার সদর দপ্তর পশ্চিম ভূজপুর মৌজায় স্থাপনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে তারা এই আন্দোলন করছেন। ফটিকছড়ির ভৌগোলিক বাস্তবতা ও সাধারণ মানুষের সুবিধা বিবেচনায় সদর দপ্তর যৌক্তিক স্থানে স্থাপন করা উচিত। ফটিকছড়ি উত্তরাঞ্চলের প্রায় আড়াই লাখ মানুষের স্বার্থে এবং সবাই যেন সমানভাবে প্রশাসনিক সেবা গ্রহণ করতে পারেন, সেজন্য এ বিষয়ে তারা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা বাস্তবায়ন সমন্বয় পরিষদের সমন্বয়ক নুরুল আমিন আযাদ বলেন, উত্তর উপজেলার সদর দপ্তর ন্যায্যতার ভিত্তিতে উত্তরাঞ্চলেই স্থাপন করতে হবে। দাবির অংশ হিসেবে আজকের হরতাল কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। দাবি বাস্তবায়ন না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
ভূজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে বলেন, হরতাল কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিভিন্ন পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। কোথাও ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ বা জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে পুলিশ কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

কামরুল সবুজ, চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলা (হাটহাজারী, ফটিকছড়ি ও রাউজান)