মেয়েকে হত্যা করে বস্তাবন্দি লাশ সড়কে, মায়ের পর আদালতে যা বললেন বাবা
খুলনা ইকবালনগর বালিকা বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী আরফানা হোসেন নির্জনা (১৬) হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে এবার আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বাবা আলিম হোসেন আকাশ। গতকাল রোববার (১৯ জুলাই) বিকেলে খুলনা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১ এর বিচারক মো. আসাদুর জামান তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন : সালাম ফেরানোর পর মসজিদেই শেষ বিদায় তারা মিয়ার
এর আগে, গত শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুর আড়াইটার দিকে ডুমুরিয়া উপজেলার একটি বাজার থেকে আকাশকে যৌথ অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করে র্যাব ও খুলনা সদর থানা পুলিশ।
উল্লেখ্য, গত ১০ জুলাই নির্জনার মা আরিফা ইয়াসমিন সীমাও মেয়ে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছিলেন।
আরও পড়ুন : বিলে ঝাঁপ দিয়েও শেষ রক্ষা হলো না ধর্ষণ মামলার দুই আসামির
আরও পড়ুন : বিশ্বকাপ খেলাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে যুবক নিহত
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও খুলনা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আমিনুল ইসলাম বলেন, শনিবার দুপুরে গ্রেপ্তারের পর আকাশকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন। রোববার সকালে তিনি স্বেচ্ছায় আদালতে জবানবন্দি দিতে রাজি হলে দুপুরের পর তাকে আদালতে পাঠানো হয়।
পুলিশ জানায়, গত ৮ জুলাই সকাল ১০টার দিকে স্বামী রনির সাথে চলে যাওয়ার জন্য নগরীর বসুপাড়া বাঁশতলা এলাকার বাড়ি থেকে বের হয় নির্জনা। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে রাস্তা থেকে বুঝিয়ে বাড়ি ফিরিয়ে আনেন। ওইদিন বিকেলে মা সীমার সাথে নির্জনার কথা-কাটাকাটি হয় এবং একপর্যায়ে নির্জনা তার মায়ের গায়ে হাত তোলে ও গলা টিপে ধরে। এ সময় বাবা আকাশ তাকে কাঠের চলা (লাঠি) দিয়ে শাসন করতে গেলে দুর্ঘটনাবশত সেটি নির্জনার মাথায় লাগে। পরে তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেও মা-বাবা ব্যর্থ হন।
মেয়ের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর মরদেহ গুম করার উদ্দেশে আকাশ কালো রঙের লুঙ্গি দিয়ে মরদেহটি বেঁধে ফেলেন। পরে ছাদ থেকে প্লাস্টিকের বস্তা এনে তাতে ভরে দোতলা থেকে নিচে নামিয়ে নেন। এরপর মোটরসাইকেলে করে মরদেহটি নিয়ে বিভিন্ন স্থানে ঘোরেন আকাশ। অবশেষে শহরতলির প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার একটি নির্জন রোডে বস্তাবন্দি মরদেহটি ফেলে দেওয়া হয়। বাড়ি ফিরে মা-বাবা দুজনেই ঘরের রক্ত মুছে ফেলেন এবং পরদিন সকালে বাড়ি থেকে পালিয়ে যান।
খুলনা সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, বস্তাবন্দি মরদেহটি উদ্ধার করার পর হত্যাকাণ্ডের কোনো ক্লু পাওয়া যাচ্ছিল না। পিবিআই ও সিআইডিও প্রথমে তার পরিচয় শনাক্ত করতে পারেনি। পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবি প্রকাশের পর মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়। ঘটনার পর মা-বাবার ফোন বন্ধ থাকায় সন্দেহ বাড়ে। পরবর্তীতে বিভিন্ন কৌশলে প্রথমে মা সীমাকে থানায় আনা হলে তিনি ঘটনার বিস্তারিত প্রকাশ করেন। ঘটনার ৬ দিন পর হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল এবং ১০ দিন পর ডুমুরিয়া থেকে বাবা আকাশকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

মুহাম্মদ আবু তৈয়ব, খুলনা