ইউএনওর ফোন নম্বর ‘ক্লোন’ করে ওসি ও বিএনপি নেতাদের কাছে টাকা দাবি
খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী শামীমের দাপ্তরিক মুঠোফোন নম্বর ‘ক্লোন’ করে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে টাকা দাবি করেছে একটি প্রতারক চক্র। চক্রটি নিজেকে ইউএনও এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয় দিয়ে রামগড় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে ফোন করে এই প্রতারণার চেষ্টা চালায়। নম্বর ক্লোন হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর ইউএনও সবাইকে সতর্ক থাকার এবং প্রতারকদের ফাঁদে না পড়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রোববার (১৯ জুলাই) সন্ধ্যা থেকে প্রতারকচক্রটি ইউএনওর দাপ্তরিক নম্বরটি ক্লোন করে বিভিন্ন ব্যক্তিকে ফোন করতে শুরু করে।
প্রতারণার শিকার ব্যক্তিদের সূত্রে জানা যায়, চক্রটি রামগড় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজির আলমের কাছে ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয়ে টাকা দাবি করে। এছাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি জসিম উদ্দিন, সহ-সভাপতি জসিম উদ্দিন এবং সাধারণ সম্পাদক শাফায়েত মোর্শেদ ভূঁইয়ার মুঠোফোনে কল করে ইউএনও পরিচয় দিয়ে নম্বরটি সেভ করা আছে কি না জানতে চায়। তবে বিএনপি নেতারা প্রতারকের কণ্ঠস্বর এবং মোবাইল স্ক্রিনে ডাবল কান্ট্রি কোড (+ +) প্রদর্শন করায় সন্দেহ প্রকাশ করলে প্রতারক চক্রটি দ্রুত লাইন কেটে দেয়।
উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি জসিম উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক শাফায়েত মোর্শেদ ভূঁইয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, তারা সে সময় একসাথেই ছিলেন। প্রতারকের কথা বলার ধরন এবং স্ক্রিনে ভেসে ওঠা নম্বরের অসঙ্গতি দেখে তাদের সন্দেহ হয়।
রামগড় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী শামীম বলেন, নম্বর ক্লোন হওয়ার বিষয়টি জানার পরপরই তাৎক্ষণিকভাবে সবাইকে সতর্ক করতে উপজেলা প্রশাসনের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানানো হয়েছে। এই ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার প্রক্রিয়া চলছে।
রামগড় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজির আলম বলেন, প্রতারকচক্রটি আমাকেও ফোন করেছিল। এই চক্রটিকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জন্য পুলিশি তৎপরতা ও তদন্ত চলছে।

আবু তাহের মুহাম্মদ, খাগড়াছড়ি