এবার সংসদ সদস্য পদও হারাবেন গাজী নজরুল
নারী কেলেঙ্কারির ঘটনায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী মো. নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে জামায়াতে ইসলামী। আজ বুধবার (২২ জুলাই) বিকেলে জামায়াতের নির্বাহী পরিষদ এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর ফলে সংসদ সদস্য পদও হারাচ্ছেন তিনি।
এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন এনটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দল থেকে বহিষ্কার হলে তার এমপি পদও থাকবে না।’ তিনি বলেন, ইতোপূর্বে মেজর আখতারুজ্জামানকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করায় তার সংসদ সদস্য পদ ও বাতিল হয়ে যায়।
ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ হলো সেই বিধান যা সংসদ সদস্যদের নিজ দলের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়া বা দলত্যাগ করা থেকে বিরত রাখে। এই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরূপে মনোনীত হয়ে সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হন ও তিনি যদি দল থেকে পদত্যাগ করেন বা সংসদে নিজ দলের বিপক্ষে ভোট দেন, তবে তার সংসদ সদস্য পদ বাতিল হয়ে যাবে।
সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এবং সাবেক চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম এনটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের ২ উপধারায় উল্লেখ আছে- কেউ যদি দলের বিরুদ্ধে ভোট অথবা দল থেকে পদত্যাগ করেন তাহলে কেবল সদস্য পদ বাতিল হবে। কিন্তু এখানে তিনি পদত্যাগ করেননি। দলের কার্যনির্বাহী থেকে বহিষ্কার হলেও তিনি যদি দলের একজন সমর্থক হিসাবে থাকেন, তাহলে তার পদ বাতিল হবে না।’
সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এডভোকেট শিশির মনির এনটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের ২ উপধারায় দল থেকে বহিষ্কার বা পদত্যাগ করলে তার এমপি পদও থাকবে না।’
এর আগে দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, জামায়াতের নির্বাহী পরিষদ গাজী নজরুলকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছে। শিগগির তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।
জামায়াত সূত্রে জানা গেছে, গাজী নজরুলের ব্যক্তিগত অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর প্রকৃত ঘটনা তদন্তে জামায়াত ইসলামী একটি কমিটি গঠন করে। তদন্ত কমিটি আজ বুধবার প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। ওই প্রতিবেদনে গাজী নজরুলের নৈতিক স্খলনের প্রমাণ মিলেছে বলেও দাবি করছে সূত্রটি।
সূত্র আরও জানায়, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর দলের নির্বাহী কমিটির বৈঠক ডাকা হয়েছে। প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে বৈঠক থেকে কঠোর সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
এর আগে গতকাল মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গাজী নজরুল ইসলাম ও এক অল্প বয়সী এক নারীর অন্তরঙ্গ মুহূর্তের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। এরপর নানা আলোচনা-সমালোচনা শুরু হলে জামায়াতের পক্ষ থেকে বিষয়টিকে পর্যবেক্ষণের কথা জানানো হয়। এ ছাড়া খোঁজ-খবর নিয়ে নজরুলের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানায় দলটি।

নিজস্ব প্রতিবেদক