আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দ্বন্দ্বে সোনারগাঁয়ে বিএনপিকর্মীকে ছুরিকাঘাতে খুন
আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দ্বন্দ্বে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলায় রাজু আহম্মেদ (৩২) নামে এক গরুর খামারিকে পিটিয়ে ও ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তাকে বাঁচাতে এসে পরিবারের নারীসহ বেশ কয়েকজন সদস্য আহত হয়েছেন।
রোববার (২৬ জুলাই) রাত ১১টার দিকে উপজেলার শম্ভুপুরা ইউনিয়নের চরহোগলা বালুরঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত রাজু আহম্মেদ ওই এলাকার আয়নাল হক ও সালেহা বেগম দম্পতির ছেলে। তার পরিবারে স্ত্রী সুমাইয়া ও দুই ছেলে রয়েছে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত রাজু অতীতে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলেও প্রায় তিন মাস আগে সক্রিয় রাজনীতি থেকে পুরোপুরি সরে দাঁড়ান। এরপর থেকেই স্থানীয় বিএনপি নেতা শাহাদাত প্রধানের সঙ্গে তার বিরোধ তৈরি হয়।
রোববার রাতে রাজুর এক ফুফাতো ভাইয়ের সঙ্গে স্থানীয় নুরুল ও জাকিরের বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে রাজু দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উভয় পক্ষকে শান্ত করে বাড়িতে ফিরে আসেন।
পরিবারের দাবি, পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার কিছুক্ষণ পর নুরুল ও জাকিরের নেতৃত্বে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি সশস্ত্র দল দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে রাজুর বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা তার ফুফাতো ভাইকে বাড়িতে না পেয়ে সরাসরি রাজুকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এ সময় তাকে লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে ছুরিকাঘাত করা হয়। রাজুর চিৎকারে পরিবারের নারীরা এগিয়ে এলে তাদেরকেও পিটিয়ে আহত করা হয়।
আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে গুরুতর আহত রাজু আহম্মেদকে মুন্সীগঞ্জ সদর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহতের পরিবার দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
শম্ভুপুরা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, নিহত রাজু বিএনপির কোনো পদধারী নেতা নয়। তবে বিএনপির সমর্থক ছিল। বর্তমানে সে একটি গরু খামারি বলে জানতে পেরেছি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শাহাদাত বলেন, আমি তিনদিন যাবত নারায়ণগঞ্জ শহরে আছি। আমার বাবা বয়স্ক মানুষ৷ আধিপত্য বিস্তারের জন্য আমাদের নিয়ে একটি চক্র ষড়যন্ত্র করছে। আমরা এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত নই।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সোনারগাঁও থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন জানান, এটি রাজনৈতিক বিরোধ, পারিবারিক দ্বন্দ্ব নাকি অন্য কোনো কারণে ঘটেছে; তা এই মুহূর্তে নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

কামরুল ইসলাম, নারায়ণগঞ্জ (সদর-সোনারগাঁ-বন্দর)