পাঠ্যপুস্তকে যুক্ত হচ্ছে ফুটবল-হকি-দাবা-সাঁতার : ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেছেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দেশের ক্রীড়া ইতিহাস, সাফল্য ও অগ্রগতি সম্পর্কে জানাতে ফুটবল, হকি, দাবা ও সাঁতারসহ বিভিন্ন খেলা পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে এসব বিষয় নিয়ে পাঠ্যপুস্তকের উপযোগী লেখা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে।
গতকাল শনিবার (১৮ জুলাই) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ শহরের ওসমানী স্টেডিয়ামে মুস্তাফিজুর রহমান ফাউন্ডেশনের আয়োজনে খালেদা জিয়া ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা ও পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, ১৭ বছরের ফ্যাসিস্টদের নিজেদের পকেট ভরা সমস্ত রাস্তা বন্ধ করা হবে। গত ১৭ বছরে দুর্নীতির নামে যে যার পকেট ভরেছে, সেই রাস্তাগুলো আমরা বন্ধ করতে চাই। কোনো ধরনের দুর্নীতিকে আমরা প্রশ্রয় দেব না।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলা মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের একটি ভিডিও তার কাছে পৌঁছেছে। ভিডিওটি দেখার পরই সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের ওয়ার্ক অর্ডার বাতিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জনগণের অর্থে নির্মিত কোনো অবকাঠামো দুর্নীতির কারণে নষ্ট হতে দেওয়া হবে না। কোথাও কোনো অনিয়ম হলে স্থানীয় জনগণকে তা সরকারকে জানানোর আহ্বান জানাচ্ছি।
আমিনুল হক বলেন, দেশের ৪ হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়নে পর্যায়ক্রমে ক্রীড়া দল গঠন করা হবে। ছেলে ও মেয়েদের অংশগ্রহণে বিভিন্ন ইভেন্টের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে খেলাধুলা ছড়িয়ে দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করছি।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান প্রজন্মকে মোবাইল ফোন ও বিভিন্ন ডিভাইসের আসক্তি থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। মাঠমুখী করার মাধ্যমে শিশু-কিশোরদের সুস্থ জীবনধারা গড়ে তোলা এবং মাদকমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠায় খেলাধুলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, নতুন জাতীয় শিক্ষাক্রমে ফুটবল, ক্রিকেট, দাবা, সাঁতারসহ আটটি ক্রীড়া বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী বছর থেকে চতুর্থ শ্রেণি থেকে এসব বিষয়ে পাঠদান শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। মূল্যায়নের ক্ষেত্রে লিখিত পরীক্ষার পাশাপাশি মাঠে অংশগ্রহণের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত খেলাধুলায় সম্পৃক্ত হয়।
আমিনুল হক বলেন, যেখানে খালি জায়গা থাকবে সেখানে খেলার মাঠ গড়ে তোলার নির্দেশনা রয়েছে। ইতোমধ্যে দেশের ৩০০ জন সংসদ সদস্যের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে, যাতে প্রতিটি ইউনিয়নে অন্তত আট বিঘা জমিতে একটি করে খেলার উপযোগী মাঠ গড়ে তোলা যায়। আগামী পাঁচ বছরে দেশের সব ইউনিয়নে খেলাধুলার উপযোগী মাঠ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ প্রসঙ্গে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, খেলাধুলার জন্য এ জেলা সবসময়ই সম্ভাবনাময়। অতীতে তিনি একাধিকবার নারায়ণগঞ্জে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন। তাই জেলার প্রতি তার আলাদা আবেগ রয়েছে। তিনি বলেন, প্রথম ধাপে দেশের ১০টি অঞ্চলে আন্তর্জাতিক মানের স্পোর্টস ভিলেজ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে এবং সেই তালিকায় নারায়ণগঞ্জকে অন্তর্ভুক্ত করার ইচ্ছা রয়েছে। এসব স্পোর্টস ভিলেজে ইনডোর গেমস, আর্চারি, শুটিং, সুইমিংসহ আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়া সুবিধা থাকবে। তিনি আরও বলেন, আগামী পাঁচ বছরে প্রতিটি জেলায় একটি করে আধুনিক সুইমিং পুল নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি জরাজীর্ণ সুইমিং পুলগুলো সংস্কার করা হবে, যাতে সাঁতার শেখার সুযোগ বাড়ে এবং পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনা কমানো যায়।
ফতুল্লা স্টেডিয়ামের বর্তমান অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক মানের যে ক্রিকেট স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হয়েছিল, সেটির অবস্থা এখন অত্যন্ত নাজুক। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম দ্রুত শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম আজাদ, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান, মুস্তাফিজুর রহমান ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান রাকিবুল ইসলাম রাকিব, নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাসুকল ইসলাম রাজীব প্রমুখ।

কামরুল ইসলাম, নারায়ণগঞ্জ (সদর-সোনারগাঁ-বন্দর)