সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের মাধ্যমে বেশি বেশি জুলাই বিপ্লবের চর্চা প্রয়োজন : মাহমুদুর রহমান
সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের মাধ্যমে বেশি বেশি জুলাই বিপ্লবের চর্চা হওয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন দৈনিক আমার দেশ এর সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান।
আজ বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেলে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় জুলাই নাট্যোৎসব, আলোচনা ও আলোকচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন ড. মাহমুদুর রহমান। মহানগর নাট্য সংসদ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. মাহমুদুর রহমান বলেন, সাংস্কৃতিক লড়াইটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, সাংস্কৃতিক লড়াইয়ে আমরা যদি জিততে না পারি, তাহলে আমরা রাজনৈতিক লড়াইয়েও জিততে পারব না। এ বিষয়টি আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বীরা খুব ভালো করেই বোঝেন। সেজন্য বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকে তারা সাংস্কৃতিক জগৎটাকে দখল করে রেখেছে। তাদের দখলমুক্ত করতে হলে আমাদের বেশি বেশি করে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে হবে। জুলাই শহীদদের বাংলাদেশের অংশ হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের মাধ্যমে বেশি বেশি জুলাই বিপ্লবের চর্চা হওয়া প্রয়োজন। চলচ্চিত্র-নাটক, সংগীত, কবিতা, গল্পের মাধ্যমে আবু সাইদ যেভাবে বুক চিতিয়ে শহীদ হয়েছে তার ইতিহাস তুলে ধরতে হবে। শহীদ, আহত, পঙ্গুত্ববরণকারী সবার অবদান নিয়ে সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের মাধ্যমে জুলাই বিপ্লবকে জাগরুক রাখতে হবে।
তিনি বলেন, কলেজ জীবনে দেখা ‘স্পার্টাকাস’ সিনেমার কথা উল্লেখ করে মাহমুদুর রহমান বলেন, সেই স্পার্টাকাস বিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসে খুব মহান ব্যক্তি হিসেবে জায়গা করে নিয়েছেন। যেকোনো লড়াইয়ে আমরা এখনো স্পার্টাকাসের কথা বলি। বাংলাদেশের মতো দেশে স্পার্টাকাসের নাম বেশি জেনেছিল ওই একটা সিনেমার মাধ্যমে। ওই ছবিটি তখন অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়েছিল। সম্প্রতি জনপ্রিয় হওয়া সুলতান সোলেমান নাটকের মাধ্যমে বাংলাদেশের সবাই তার নাম জেনেছে। উসমানি খেলাফতের কথা জেনেছেন অনেকে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ইতিহাস বর্ণনা করার জন্য চলচ্চিত্র-নাটকের ভূমিকা কত গুরুত্বপূর্ণ এবং লড়াইয়ের জন্য কত গুরুত্বপূর্ণ- তা এখান থেকেই বোঝা যায়। তবে গান-সংগীত, কবিতা, গল্প-উপন্যাস এগুলোও খুব গুরুত্বপূর্ণ।
জুলাই বিপ্লব নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণের বিষয়ে তিনি বলেন, অনেক সিনেমা হওয়া উচিত, অনেক কাহিনী হওয়া উচিত। আমাদের জুলাই বিপ্লবে হাজারো শহীদ রয়েছে। তাদের জীবন নিয়ে সিনেমা হতে পারে। শিশু-কিশোর-তরুণরা জীবন দিয়েছে। আবু সাঈদ যেভাবে দু হাত প্রসারিত করে জীবন দিয়েছে, তা স্পার্টাকাসের তুলনায় কোনো অংশে কম নয়, বরং অনেকাংশে বেশি। কারণ স্পার্টাকাসের হাতে অস্ত্র ছিল, সে গ্লাডিয়েটর ছিল, তার শক্তি ছিল। কিন্তু আবু সাঈদের হাতে কোনো অস্ত্র ছিল না, সে নিরস্ত্র অবস্থায় শুধু আল্লাহর উপর ভরসা করে, ঈমানের শক্তিতে লড়াই করেছে, জীবন দিয়েছে।
মহানগর নাট্য সংসদের কার্যকরী সভাপতি মাহবুব মুকুললের সভাপতিত্বে এবং নাট্য নির্মাতা হুসনে মোবারকের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন অভিনেতা আব্দুল আজিজ, বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক পৃষ্ঠপোষক দেলাওয়ার হোসাইন, কিডস ক্রিয়েশন অনলাইন টিভির সিইও শরীফ বায়েজিদ মাহমুদ, বাংলাদেশ কালচারাল একাডেমির সভাপতি আবেদুর রহমান, জুলাই শহীদ সৈকতের বোন শ্রাবন্তি।
অনুষ্ঠানে ‘গারদের বন্দি’, ‘হাফেজ জুবায়ের’ এবং ‘৩৬ জুলাই’—শিরোনামের তিনটি নাটক মঞ্চস্থ করা হয় এবং সকাল থেকে আলোকচিত্র প্রদর্শনী হয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক