গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে মঞ্চস্থ হলো নাটক ‘রক্তাক্ত জুলাই’
সাংস্কৃতিক আন্দোলনের মাধ্যমে গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাসকে জাগরুক রাখার প্রয়াসে জাতীয় নাট্যশালায় মঞ্চস্থ হলো বিশেষ নাটক ‘রক্তাক্ত জুলাই’। এস এম শফিকুল ইসলাম রুবেলের রচনায় ও এ বি এম নোমান আজাদের নির্দেশনায় নাটকটি গত বুধবার (২৯ জুলাই) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার প্রধান মিলনায়তনে জুলাই নাট্যোৎসবে প্রদর্শিত হয়।
নাটকটিতে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান, কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্রেক্ষাপট, বাকস্বাধীনতা হরণ, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং তৎকালীন প্রশাসনের দমন-পীড়নের চিত্র নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
নাটকের গল্পে দেখা যায়, সাধারণ মানুষের ক্ষোভ, শিক্ষার্থীদের মেধাভিত্তিক সমাজের দাবি এবং তৎকালীন শাসকগোষ্ঠীর অসংবেদনশীল আচরণ কীভাবে একটি পুরো দেশকে আন্দোলনের আগুনে দগ্ধ করে। নাটকের বিভিন্ন দৃশ্যে উঠে এসেছে আয়নাঘরের নৃশংসতা, টর্চার সেলের ভয়াবহতা, পুলিশের গুলিবর্ষণ এবং আন্দোলনকারীদের অবর্ণনীয় আত্মত্যাগের দৃশ্য।
বিশেষ করে শহীদ আবু সাঈদের বুলেটের সামনে বুক পেতে দেওয়ার দৃশ্য এবং আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর নির্বিচার গুলির করুণ পরিণতি দর্শকদের আবেগাপ্লুত করে তোলে। একপর্যায়ে এক পুলিশ কর্মকর্তার নিজ সন্তানের লাশ শনাক্ত করার দৃশ্য মঞ্চে এক হৃদয়বিদারক আবহ তৈরি করে।
আলো, শব্দ ও কোরিওগ্রাফির চমৎকার ব্যবহারে নাটকের ক্লাইম্যাক্স ফুটিয়ে তোলা হয়। শেষ দৃশ্যে স্বৈরাচারের পতন এবং বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকার উত্থানের মধ্য দিয়ে নতুন সূর্যোদয়ের বার্তা দেওয়া হয়।
উপস্থিত দর্শকরা জানান, নাটকটির সংলাপ ও পরিবেশনা তরুণ প্রজন্মের বীরত্ব এবং রক্তের বিনিময়ে অর্জিত গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাসকে জীবন্ত করে তুলেছে। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে মহানগর নাট্য সংসদ।
মহানগর নাট্য সংসদের কার্যকরী সভাপতি মাহবুব মুকুলের সভাপতিত্বে ও নাট্য নির্মাতা হুসনে মোবারকের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন অভিনেতা আব্দুল আজিজ, বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক পৃষ্ঠপোষক দেলাওয়ার হোসাইন, কিডস ক্রিয়েশন অনলাইন টিভির সিইও শরীফ বায়েজিদ মাহমুদ, বাংলাদেশ কালচারাল একাডেমির সভাপতি আবেদুর রহমান ও জুলাই শহীদ সৈকতের বোন শ্রাবন্তি।
অনুষ্ঠানে ‘গারদের বন্দি’, ‘হাফেজ জুবায়ের’ এবং ‘৩৬ জুলাই’- শিরোনামে তিনটি নাটক মঞ্চস্থ করা হয় এবং সকাল থেকে আলোকচিত্র প্রদর্শনী হয়।

বিনোদন ডেস্ক