বিএনপি নেতা বাশারকে কুপিয়ে হত্যা, বহিষ্কৃত নেতা লেদু কারাগারে
রাজধানীর মোহাম্মদপুরের নবোদয় হাউজিং ইউনিট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার বাদশাহকে কুপিয়ে হত্যার মামলায় গ্রেপ্তার আদাবর থানা বিএনপির বহিষ্কৃত যুগ্ম আহ্বায়ক মনোয়ার হোসেন জীবন ওরফে লেদু হাসানের রিমান্ড নাকচ করে কারাগারে প্রেরণের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
আজ রোববার (২ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলম এই আদেশ দেন। ঢাকার সিএমএম আদালতে আজ আসামিকে হাজির করে সাত দিন রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদাবর থানার উপপরিদর্শক(এসআই) হাফিজুর রহমান।
ঢাকার অপরাধ, তথ্য ও প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে, গত ২৮ জুলাই রাতে মোহাম্মদপুরের মোহাম্মাদিয়া হাউজিং সোসাইটি এলাকা থেকে লেদুকে আটক করে র্যাব-২।
র্যাব জানায়, লেদু হাসানের বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় মোট ৩২টি মামলা রয়েছে। তিনি মোহাম্মদপুরের নবোদয় হাউজিং ইউনিট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার বাদশাহ হত্যা মামলার অন্যতম অভিযুক্ত আসামি। এই মামলায় গ্রেপ্তার অন্যদের আদালতে দেওয়া ফৌজদারি কার্যবিধি আইনের ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে তার নাম উঠে এসেছে, লেদুই মূল হত্যাকারী পারভেজকে হত্যার জন্য অস্ত্র সরবরাহ করেছিলেন।
নথি থেকে জানা গেছে, গত ২৯ জুন রাত দেড়টার দিকে ফুটবল বিশ্বকাপে ব্রাজিল জয়লাভ করে। ব্রাজিলের জয়ের পর নিরব উচ্চস্বরে বাঁশি বাজাতে থাকে। সেখানে হৃদরোগে আক্রান্ত হাবিবুর রহমান নামে এক ব্যক্তি তাকে বাঁশি বাজাতে নিষেধ করেন। নিরব ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে মারতে আসে। স্থানীয় লোকজন তাকে নিবৃত করে। গত ১ জুলাই সন্ধ্যা ৭টার দিকে মীমাংসার জন্য স্থানীয় লোকজন দোকানে উপস্থিত হন। সালিশে আবুল বাসার বাদশা উপস্থিত ছিলেন। সেখান থেকে আসামিরা কৌশলে বের হয়ে নবোদয় চার রাস্তার মোড়ে ওত পেতে থাকে। স্থানীয় লোকজন সবাইকে দোকান থেকে চলে যেতে বলেন, অন্যান্যের সঙ্গে সাদ্দাম ও বাদশাহও বের হয়। রাত সাড়ে ৮টার দিকে চার রাস্তার মোড়ে আসামিরা সাদ্দাম ও বাদশাহ ওপর হামলা করে। সুইচ গিয়ার ও চাপাতি দিয়ে বাদশাহ ও সাদ্দামকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে।
স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। তাদের মধ্যে মো. আবুল বাসার বাদশার অবস্থার অবনতি হলে হলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। রাত সাড়ে ১১টার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আর আহত সাদ্দাম শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ওই ঘটনায় নিহতের স্ত্রী মোসা. স্মৃতি আক্তার আদাবর থানায় মামলাটি দায়ের করেন। এ নিয়ে এই হত্যার ঘটনায় ১০জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।

আদালত প্রতিবেদক