খাল খননের ৯ লাখ টাকা ফেরত দিলেন ইউএনও
নওগাঁর নিয়ামতপুরে একটি খাল পুনঃখনন প্রকল্পের কাজ শেষ করে উদ্বৃত্ত ৯ লাখ ৮৩ হাজার ৭৬২ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোসা. মুর্শিদা খাতুন। সরকারি অর্থ সাশ্রয় ও স্বচ্ছতার এই উদ্যোগটি স্থানীয় সর্বস্তরে প্রশংসিত হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা জোরদার করতে চন্দননগর ইউনিয়নের বিষ্ণুপুর রেজাউলের জমি থেকে সন্তোষপাড়া ছাতড়া বিল পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এজন্য সরকার ৬৪ লাখ ৪১ হাজার ৪১৯ টাকা বরাদ্দ প্রদান করে। সুষ্ঠু তদারকির মাধ্যমে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মানসম্মত কাজ শেষ হলেও বরাদ্দের প্রায় পৌনে দশ লাখ টাকা অব্যবহৃত থেকে যায়, যা পরবর্তীতে সরকারি চালানের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় তহবিলে ফেরত পাঠানো হয়।
স্থানীয় অধিবাসী ও জনপ্রতিনিধিরা জানান, কোনো উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বৃত্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত পাঠানোর ঘটনা বিরল। এটি প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার একটি অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
চন্দননগর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মইনুল ইসলাম বলেন, খাল পুনঃখননের ফলে এলাকার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নত হবে। পাশাপাশি বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা কমবে এবং কৃষকরাও উপকৃত হবেন।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এনামুল হক বলেন, খাল পুনঃখননের ফলে কৃষিজমিতে সেচ ব্যবস্থা উন্নত হবে, জলাবদ্ধতা কমবে এবং বর্ষার পানি দ্রুত নিষ্কাশন করা সম্ভব হবে। এতে স্থানীয় কৃষি উৎপাদনেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে নিয়ামতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোসা. মুর্শিদা খাতুন বলেন, সরকারি অর্থ জনগণের আমানত। সঠিক পরিকল্পনা, স্বচ্ছতা ও নিয়মিত মনিটরিং থাকলে বাজেটের মধ্যেই সাশ্রয়ীভাবে কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব। সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে জনগণের আমানতের সঠিক মর্যাদা রাখতেই এই চেষ্টা করা হয়েছে।

সুলতান আহমেদ, নওগাঁ (মান্দা-নিয়ামতপুর)