‘আর কখনো কথা হবে না, দেখা হবে না’ বার্তা পাঠিয়ে প্রেমিকার আত্মহত্যা
‘সানি আমি জানি আমাকে কখনো ক্ষমা করবা না, তা-ও বলি—আমাকে ক্ষমা করে দিও। আমি তোমাকে অনেক কষ্ট দিছি। আমি তোমাকে আমার মৃত্যুর শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আল্লাহর কাছে চাইব...। আর কখনও কথা হবে না, দেখা হবে না, অনেক ভালোবাসি, অনেক ভালোবাসি। বাই। আল্লাহ হাফেজ।’ প্রেমিকের মোবাইল ফোনে এমন আবেগঘন ক্ষুদেবার্তা পাঠিয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন আফরিন আক্তার (১৭) নামের এক কলেজছাত্রী।
গতকাল সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে কুমিল্লার দেবিদ্বার পৌরসভার মোল্লাবাড়ি মসজিদ সংলগ্ন খান মঞ্জিলের চতুর্থ তলার একটি ভাড়া বাসা থেকে আফরিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
আফরিন আক্তার উপজেলার বিনাইপাড় গ্রামের মৃত আব্দুল আউয়ালের মেয়ে এবং পারুয়ারা আব্দুল মতিন খসরু কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক প্রথম বর্ষের ছাত্রী ছিল। বাবার মৃত্যুর পর থেকে গত ১০ বছর ধরে মায়ের সঙ্গে দেবিদ্বার সদরে ভাড়া বাসায় থাকত সে।
স্থানীয়রা জানায়, প্রতিবেশী ভাড়াটিয়া ও বড়শালঘর গ্রামের সাখাওয়াত হোসেন সানির (২৬) সঙ্গে আফরিনের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। পেশায় ক্যামেরাম্যান সানির সঙ্গে মেয়ের এ সম্পর্ক মেনে নিতে পারেননি আফরিনের মা মরিয়ম বেগম। সানি ক্রমাগত আফরিনকে ডিস্টার্ব করে, এমন অভিযোগে গত রোববার দুই পরিবার ও বাড়ির মালিককে নিয়ে সালিশ বৈঠক হয়। এরপর ক্ষুব্ধ হয়ে মা মরিয়ম বেগম মেয়েকে একা বাসায় রেখে বাবার বাড়ি চলে যান।
গতকাল সোমবার সকালে সানি মেসেজের বিষয়টি সৌদি প্রবাসী আফরিনের ভাই আজাদকে জানান এবং বলেন, তার পরিবার এ বিয়ে মানবে না, ফলে আফরিন আত্মহত্যা করতে পারে। এরপর বিদেশ থেকে আজাদের ফোন পেয়ে মা মরিয়ম বেগম দুপুরে বাসায় ফেরেন। তবে ভেতর থেকে দরজা বন্ধ পেয়ে স্থানীয় ও কারিগরদের সহায়তায় দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে দেখতে পান সিলিং ফ্যানের সঙ্গে আফরিনের নিথর দেহ ঝুলছে।
মা মরিয়ম বেগম বলেন, ‘সানি আমার মেয়েকে নানাভাবে অতিষ্ঠ করে তুলেছিল। আমার মেয়ের এ অকাল মৃত্যুর জন্য সানিই সম্পূর্ণ দায়ী। আমি তার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।’
বাড়ির মালিক শাহ আলম খান বলেন, ছেলে-মেয়ে উভয়েই বিয়েতে রাজি থাকায় সোমবার দুই পক্ষের অভিভাবকদের নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা ছিল, কিন্তু তার আগেই এ ট্র্যাজেডি।
দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আপাতত একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হচ্ছে। পরিবারের লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রাথমিক তদন্তে পারিবারিক মনোমালিন্য এবং প্রেমের সম্পর্কের টানাপোড়েনে আত্মহত্যার প্ররোচনা বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

ইসহাক হাসান, কুমিল্লা (মুরাদনগর-দেবিদ্বার-ব্রাহ্মণপাড়া)