শ্রমিকদের জিম্মি করে বাস চলাচল বন্ধের অভিযোগ
ধোবাউড়া-ময়মনসিংহ রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে গত শুক্রবার দুপুর থেকে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছে নিয়মিত যাত্রী ও পরিবহণ শ্রমিকরা। এ বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জেলা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে।
স্থানীয়রা জানায়, ধোবাউড়া উপজেলার যুবদলনেতা শামীম মিয়ার একটি নাইট কোচ ধোবাউড়া-ঢাকা রুটের পারমিট নিয়ে ধোবাউড়া-ময়মনসিংহ সড়কে চলাচলের উদ্যোগ নেয়। এ সময় বাসটি চলাচলে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে জেলা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। পরে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ধোবাউড়া-ময়মনসিংহ রুটের সব বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়।
শামীম মিয়ার অভিযোগ, ধোবাউড়া থেকে শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি নজরুল ইসলামের দুটি নাইট কোচ ঢাকায় চলাচল করে। তার একটি বাস নতুন রোড পারমিট পাওয়ায় নজরুল ইসলাম বাসটি চলাচলে বাধা দিয়ে আসছেন। এরপর সেটি বন্ধ করতে তিনি শ্রমিক ইউনিয়নের ক্ষমতার অপব্যবহার করে শ্রমিকদের জিম্মি করে সব গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন।
শামীম মিয়া বলেন, ‘আমি চাই সবার গাড়ি উন্মুক্তভাবে চলাচল করবে। কোনো সিন্ডিকেট এলাকাবাসী মেনে নেবে না।’
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ধোবাউড়া থেকে বাস চলাচল বন্ধ থাকায় নিয়মিত যাতায়াতকারী যাত্রীদের ভোগান্তি বেড়েছে। বিশেষ করে ময়মনসিংহ শহরে বিভিন্ন কাজে যাওয়া মানুষকে বিকল্প যানবাহনের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে অতিরিক্ত সময় ও ভাড়া গুনতে হচ্ছে তাদের।
এ বিষয়ে জেলা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি নজরুল ইসলাম বলেন, আমি তো বাস চলাচলের বিপক্ষে না। শামীম মিয়া ভাড়া গাড়ি এনে চালাতে চাইছে। ধোবাউড়া ব্রিজ ভাঙ্গা। রাস্তা নষ্ট। একদিন গাড়ি গেলে তিন দিন চলে না। এই গাড়িগুলোই চালানো যায় না। তার পরও আমরা চালাই। এ ব্যাপারে আমি মালিকদের সঙ্গে কথা বলেছি। শ্রমিকরার গাড়ি চালালেই লাভ। কারণ শ্রমিকরা তো আর অন্য কোনো বেতন পায় না। তবে শামীম মিয়া হলো শ্রমিক দলের নেতা। এখন শ্রমিকের সুবিধা বাদ দিয়ে নিজে সুবিধা নিতে চায়। আমি আজ মোটর মালিক সমিতির মহাসচিবের সঙ্গে এ ব্যাপারে কথা বলেছি।

মানিক চৌধুরী, ময়মনসিংহ (হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া)