সাবেক এমপি এইচ বি এম ইকবালের কার্যালয় সিলগালা, বিপুল দলিল-চেকবই জব্দ
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) ও প্রিমিয়ার ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান এইচ বি এম ইকবালের কার্যালয়ে চার দিনব্যাপী অভিযান শেষে সেটি সিলগালা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
আজ সোমবার (১৭ আগস্ট) রাতে এনটিভি অনলাইনকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের উপপরিচালক হোসাইন শরীফ।
হোসাইন শরীফ জানান, গত ৯ থেকে ১২ আগস্ট রাজধানীর বনানীর ইকবাল সেন্টারের ১৬তলায় এইচ বি এম ইকবালের কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে অন্তত ৩০০ দলিল, বায়না দলিল এবং ৫০০ থেকে ৬০০টির বেশি চেকবই উদ্ধার করা হয়।
হোসাইন শরীফ বলেন, ‘আমরা গত রোববার থেকে বুধবার পর্যন্ত অভিযান চালাই। শেষ দিনে তার (এইচ বি এম ইকবালের) কার্যালয়ে সিলগালা করা হয়।’
দুদকের উপপরিচালক জানান, অভিযানকালে এইচ বি এম ইকবালের কার্যালয় থেকে সাতটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস এবং স্থায়ী আমানত-এফডিআর-সংক্রান্ত নথির পাশাপাশি নগদ প্রায় দেড় লাখ টাকা জব্দ করা হয়। তিনি বলেন, পুরো ইকবাল সেন্টার সিলগালা করা হয়নি। ইকবালের দপ্তর ও এক পরিচালকের কক্ষ সিলগালা করা হয়েছে।
এদিকে এইচ বি এম ইকবালের কার্যালয়ে অভিযান ও সিলগালার পরই আজ সোমবার প্রিমিয়ার গ্রুপের তিন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে দুদক। তারা হলেন—প্রিমিয়ার গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তফা তালুকদার, প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা মিজানুর রহমান ও মহাব্যবস্থাপক এ ডি এম নাজমুল ইসলাম।
সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে এই তিন কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়। দুদকের উপপরিচালক মো. হোসাইন শরীফের নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছে।
এইচ বি এম ইকবাল ও তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অর্থপাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে গত ৩ আগস্ট তাদের তলব করা হয়।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর শেখ হাসিনার পরিবার ও ১০টি শিল্পগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি, প্রতারণা, জালিয়াতি, অর্থপাচার এবং কর ও শুল্ক ফাঁকির অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু হয়। এর মধ্যে প্রিমিয়ার গ্রুপও রয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক