ভেঙে গেছে কাঠের সেতু, ডিঙি নৌকাই ভরসা ১০ গ্রামের মানুষের
রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার শহীদবাগ ইউনিয়নের প্রাণনাথ চর এলাকায় নদী পারাপারের জন্য নির্মিত কাঠের সেতুটি ভেঙে গেছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন অন্তত ১০ গ্রামের হাজারো মানুষ।
স্থানীয়রা জানান, নদী পারাপারের জন্য নির্মিত কাঠের সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় ছিল। সম্প্রতি সেতুটির একাংশ ভেঙে নদীতে পড়ে যায়। সেতু ভেঙে যাওয়ায় এলাকার স্বাভাবিক যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সেতু না থাকায় ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে স্থানীয়দের। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন কোমলমতি শিক্ষার্থী, গর্ভবতী নারী, বৃদ্ধ ও অসুস্থ মানুষ।
প্রাণনাথ চর ও আশপাশের এলাকাগুলো মূলত কৃষিনির্ভর। সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় কৃষকরাও উৎপাদিত ধান, সবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্য সময়মতো হাট-বাজারে নিয়ে যেতে পারছেন না। ফলে পরিবহণ ব্যয় বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়েও শঙ্কায় রয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।
স্থানীয়রা জানান, সেতুটি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে যাতায়াত মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ডিঙি নৌকা কিংবা ব্রিজের অবশিষ্ট অংশ ব্যবহার করে নদী পারাপার করছে। এতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
এলাকাবাসীর দাবি, জনদুর্ভোগ লাঘবে অবিলম্বে একটি নিরাপদ বিকল্প পারাপারের ব্যবস্থা করা হোক। পাশাপাশি প্রাণনাথ চর এলাকায় একটি স্থায়ী ও টেকসই পাকা সেতু নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জরুরি পদক্ষেপ নেবে এমন প্রত্যাশা তাদের।
সজিবুর রহমান নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় স্কুলে যেতে অনেক সমস্যা হচ্ছে। ডিঙি নৌকায় নদী পার হতে ভয় লাগে। তবে সেতুটি ঠিক হয়ে গেলে যাতায়াতে আর সমস্যা থাকবে না।
স্থানীয় বাসিন্দা জসিম সরকার বলেন, সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় এলাকাবাসীর দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। বিশেষ করে নারী, শিশু ও অসুস্থ মানুষ বেশি সমস্যায় পড়েছেন। তাই বিষয়টি কর্তৃপক্ষ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত একটি নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা করবে এবং স্থায়ী সেতু নির্মাণে উদ্যোগ নেবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
এ বিষয়ে কাউনিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) পাপিয়া সুলতানা বলেন, কাঠের তৈরি সেতুটি ভেঙে যাওয়ার বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। এলাকাবাসীর দুর্ভোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। দ্রুত সরেজমিনে পরিস্থিতি পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা এবং স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ইউনাইটেড নিউজ অব বাংলাদেশ (ইউএনবি)