‘শহীদ রোকনের মৃত্যু সনদ চাইলে ডাক্তার ধমক দিয়ে দিতে অস্বীকার করে’
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ফারহান ফাইয়াজসহ ৯ জনকে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ফজলে নূর তাপস এবং সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানকসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন শহীদ শাহরিয়ার হোসেন রোকনের বাবা মনির হোসন।
আজ বুধবার (১৯ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ মামলার পঞ্চম সাক্ষী হিসেবে মনির হোসেন এ জবানবন্দি দেন।
জবানবন্দিতে মনির হোসেন বলেন, আমার বর্তমান বয়স আনুমানিক ৫৪ বছর। আমি শহীদ শাহরিয়ার হোসেন রোকনের বাবা। আমি একজন কাঁচামালের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। রোকন আমার বড় ছেলে। রোকন আমার মতো ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ছিল। ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই মোহাম্মদপুর ময়ুর ভিলার সামনে অনেক আন্দোলনকারী জমায়েত হয়। তখন পুলিশ এবং হেলমেট পরিহিত আওয়ামী লীগের ক্যাডাররা আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে আন্দোলনকারীদের গুলি করছিল। ওইদিন শুক্রবার ছিল। তখন আমার দুই ভাগ্নে সোহেল ও আলামিন এসে বলল, মামা রোকনের গায়ে গুলি লেগেছে। তাকে মমতাজ ট্রমা হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
শহীদ রোকনের বাবা মনির হোসেন বলেন, আমি দ্রুত হাসপাতালে গিয়ে দেখি তাকে একটি স্ট্রেচারে শুয়ে রাখা হয়েছে। কর্তব্যরত ডাক্তাররা আমাকে বলেন, আপনার ছেলের সারা শরীরে গুলিবিদ্ধ হয়েছে। তাকে এখানে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব নয়। তাকে দ্রুত সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত ডাক্তার জানান, আমার ছেলে বেঁচে নেই।
এ পর্যায়ে সাক্ষী কান্নায় ভেঙে পড়েন। এরপর সাক্ষী মনির হোসেন বলেন, আমি ডাক্তারের কাছে রোকনের মৃত্যু সনদপত্র চাই। ডাক্তার আমাকে ধমক দেন এবং তা দিতে অস্বীকার করেন। রোকনের লাশ বাসায় নিয়ে আসার পথে মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ডে দেখি আওয়ামী লীগের হেলমেট পরিহিত লোকজন ব্যাপকহারে গুলিবর্ষণ করছে। সেখানে অনেক লোকজন ছিল, কারো হাতে লাঠি, কারো হাতে আগ্নেয়াস্ত্র ছিল, কারো মাথায় হেলমেট ছিল, কারো হাতে চাপাতি ছিল। তারা আওয়ামী লীগের লোকজন ছিল। পরে রোকনকে রায়েরবাজার বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করি।
পরে এ ঘটনার মামলায় মনির হোসেন হত্যাকাণ্ডের নির্দেশদাতা হিসেবে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, ফজলে নূর তাপস, সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক পুলিশ কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা বিপ্লব কুমার সরকারসহ জড়িতদের দায়ী করেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক