পানি সংকটে ঝুঁকিতে সাতছড়ির বন্যপ্রাণী, দ্রুত পুনঃখননের তাগিদ চিফ প্রসিকিউটরের
হবিগঞ্জের চুনারুঘাটের সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে পানি সংকটে পড়ার আশঙ্কায় রয়েছে বন্যপ্রাণী। সাম্প্রতিক ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে উদ্যানের তিনটি প্রধান জলাধারের মধ্যে দুটি বালু-পলিতে ভরাট হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একটি প্রায় পানিশূন্য হয়ে পড়েছে, অন্যটিও ভরাট হওয়ার পথে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম প্রসিকিউশন টিমকে সঙ্গে নিয়ে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান পরিদর্শন করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান রেঞ্জ ও বন্যপ্রাণী কর্মকর্তা মোবারক হোসেন সাংবাদিকসহ বন বিভাগের কর্মকর্তারা।
এসময় আমিনুল ইসলাম বলেন, পুকুরগুলোর গভীরতা বাড়াতে পুনঃখনন করতে হবে এবং পাড়গুলো মজবুত করতে হবে। শুষ্ক মৌসুমের কথা বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনে গভীর নলকূপ কিংবা কৃত্রিম ও টেকসই জলাধার তৈরির উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে পাহাড়ি ঢল ও বালুর স্রোতে জলাধার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ঠেকাতে কারিগরি পরামর্শ অনুযায়ী গাইডওয়াল পুনর্নির্মাণ, রাবার ড্যাম বা গাইড ব্লক স্থাপন করতে হবে।
আসন্ন শুষ্ক মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই এসব কাজ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন চিফ প্রসিকিউটর। বন বিভাগ চাইলে তিনি নিজস্ব অর্থায়নে বন্যপ্রাণীদের জন্য পুকুর খনন ও পানির ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাসও দেন।
সাতছড়ির বন্যপ্রাণীদের জন্য জলাধার শুধু পানির উৎস নয়; বনাঞ্চলের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায়ও এগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। জলাধারের পানি কমে গেলে ব্যাঙ, কীটপতঙ্গসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র প্রাণীর অস্তিত্বও হুমকিতে পড়তে পারে। এর প্রভাব পড়বে খাদ্যশৃঙ্খল ও পুরো বনজ প্রতিবেশব্যবস্থায়।
আর শুষ্ক মৌসুমে পর্যাপ্ত পানি না পেলে বন্যপ্রাণীরা বাধ্য হয়ে বনের বাইরে বেরিয়ে আসতে পারে। তখন মানুষের বসতি, কৃষিজমি কিংবা সড়কের আশপাশে তাদের বিচরণ বাড়বে। এতে একদিকে প্রাণীদের জীবন ঝুঁকিতে পড়বে, অন্যদিকে মানুষ-বন্যপ্রাণীর সংঘাতের সম্ভাবনাও বাড়বে।
সাতছড়ি রেঞ্জ ও বন্যপ্রাণী কর্মকর্তা মোবারক হোসেন জানান, দুটি গুরুত্বপূর্ণ পুকুর দ্রুত পুনঃখনন ও পাড় সংস্কার করা প্রয়োজন। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত গাইডওয়াল ও সিসি ব্লকও মেরামত করা দরকার। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত ২৪৩ হেক্টরের সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে প্রায় ২৪ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ১৯৭ প্রজাতির পাখি এবং শতাধিক সরীসৃপ ও উভচর রয়েছে। জীববৈচিত্র্যের এই গুরুত্বপূর্ণ আশ্রয়স্থল রক্ষায় শুষ্ক মৌসুমের আগেই জলাধারগুলো সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

মো. সেলিম মিয়া, হবিগঞ্জ