প্রেসিডেন্ট জিয়া আধুনিক বাংলাদেশের কারিগর : পানিসম্পদমন্ত্রী
পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান তার নেতৃত্বের মাধ্যমে নতুন ও আধুনিক বাংলাদেশের চিন্তা আমাদের মধ্যে ঢুকিয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান আধুনিক বাংলাদেশের কারিগর।
আজ মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জিয়া স্মৃতি পাঠাগার ও জাতীয়তাবাদী প্রকাশনা সংস্থার উদ্যোগে আয়োজিত ‘জিয়া স্মৃতি বই মেলা-২০২৬’-এর ষষ্ঠ দিনের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পানিসম্পদমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, বিএনপি এখন যে পর্যায়ে উপনীত হয়েছে, এর নেতৃত্বে ছিলেন জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়া। কিন্তু ত্যাগ, পরিশ্রম ও আন্দোলন-সংগ্রামের বাকিটা অর্জন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের। এই ক্যাম্পাসেই প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ছাত্রদল শুরু করেন। তিনি এতটাই উদার ছিলেন, এত বেশি দেশকে নিয়ে চিন্তু করতেন। তিনি ছাত্রদল গঠন করতে গিয়ে এর প্রমাণ করেছেন।
পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার সময় জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে। তিনি স্বাধীনতার ডাক দিয়েছেন, অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছেন। তিনি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের নেতা, মুক্তিযোদ্ধাদের নেতা।
এ সময় শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি আরও বলেন, স্বাধীনতার পর যারা এদেশের দায়িত্ব নিয়েছিল—১৯৭২,৭৩,৭৪ ও ৭৫-এ তাদের দুর্নীতি ও দুঃশাসন পর প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মহান বিপ্লব ও সংহতিতে এদেশের মানুষ নতুন করে স্বপ্ন দেখা শুরু করল।
পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, আমরা যখন ছাত্রদলের রাজনীতি করেছি এবং বর্তমানে বিএনপির নেতৃত্বে রয়েছি, আমরা কখনো রাজনীতির মাঠে প্রতিপক্ষকে নিয়ে অশালীন শব্দচয়ন বা গালিগালাজ করতে দেখিনি। শহীদ জিয়ার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে আমরা রাজনীতিতে এসেছি। ফ্যাসিস্ট ও কোনোদিন আমাদের চোখের সামনে দাঁড়িয়ে চোখ রাঙিয়ে কথা বলার স্পর্ধা পায়নি। জুলাই আন্দোলনে আমরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে এমন অশালীন ভাষা পাইনি।
মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, ৫ আগস্টের পর পাটওয়ারী-সিফাত গংদের অশালীন উক্তি এবং তারেক রহমানকে টার্গেট করে, জিয়া পরিবারকে টার্গেট করে শিষ্টাচার বহির্ভূত ও নীতি বর্জিত গালিগালাজ করা হয়েছে—এটি সুস্পষ্ট অপরাধ।
বিরোধীদলকে নিয়ে পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদ এত সাহস পায়নি, যে সাহস আজকে তারা দেখাচ্ছে। ’৮৬ সালে এরা ফ্যাসিবাদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে স্বৈরাচারকে শেল্টার দিয়েছে। ১৯৯৬ সালে তারা এই ফ্যাসিবাদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ১৭২ দিন হরতাল অবরোধ করে জাতিকে বারবার কষ্ট দিয়েছে। ওদের সঙ্গে ওই পাড়ের একটি যোগসূত্র আছে।
আলোচনা সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পালি অ্যান্ড বুদ্ধিস্ট স্টাডিজের অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া।
জিয়া স্মৃতি পাঠাগারের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি আ ন ম সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আমানউল্লাহ আমানের সঞ্চালনায় সভায় অন্যান্যদের মধ্যে আরও বক্তব্য দেন—ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন ও জিয়া স্মৃতি পাঠাগারের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি জহিরুল ইসলাম বুলবুলসহ অন্যান্যরা।

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)