তিতাসের বুকে বৈঠার ঝঙ্কার, দুই পাড়ে লাখো মানুষের ঢল
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বুক চিরে বয়ে যাওয়া তিতাস নদীতে জমে উঠেছিল আবহমান বাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা। ছন্দে ছন্দে বৈঠার হাঁক আর ঢোল-কাঁসরের তালে তিতাসের দুই তীরে আছড়ে পড়েছিল লাখো মানুষের আনন্দের জোয়ার। আজ শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।
শহরের শিমরাইলকান্দি গাওগ্রাম পয়েন্ট থেকে শুরু হয়ে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ প্রতিযোগিতাটি মেড্ডা শ্মশানঘাট এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মোট ১০টি বাহারি নৌকা এ প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়।
প্রতিযোগিতায় নৈপুণ্য প্রদর্শন করে প্রথম স্থান অধিকার করে চ্যাম্পিয়ন হয় ‘শাপলা বয়েজ ক্লাব’। চ্যাম্পিয়ন দলের হাতে পুরস্কার হিসেবে নগদ দুই লাখ টাকা তুলে দেওয়া হয়।
নৌকা বাইচকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই তিতাস নদীর দুই পাড়ে উৎসুক জনতার উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা যায়। নদীর তীরের পাশাপাশি বিভিন্ন নৌযানে চড়ে হাজারো দর্শনার্থী উপভোগ করেন প্রতিযোগিতার মনমুগ্ধকর দৃশ্য। বাইচ দেখতে আসা দূর-দূরান্তের মানুষের কলরবে নদীর দুই কূল এক উৎসবমুখর জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক আবু সাইদ পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল এ সময় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন।
বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মোবারক হোসেন, এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সংগঠক মো. আতাউল্লাহ, জেলা পরিষদের প্রশাসক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নাদিয়া পাঠান পাপন এবং জেলা পুলিশ সুপার শাহ মো. আব্দুর রউফসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও সুশীল সমাজের নেতারা।
আয়োজকরা জানান, আধুনিকতার ছোঁয়ায় হারিয়ে যেতে বসা লোকজ সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতেই প্রতি বছর এই আয়োজন ধরে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।

শাহনেওয়াজ শাহ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া (সদর-আশুগঞ্জ-বিজয়নগর)