বান্দরবানে ব্যবসায়ীর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার, আটক ১
বান্দরবানে নাইক্ষ্য্যছড়ি উপজেলার বাইশারীতে এক কাঠ ব্যবসায়ীকে জবাই করে হত্যা করা হয়েছে। তার নাম জাফর আলম বাবুল। তিনি লম্বাবিল এলাকার ওসমান গনির ছেলে। আজ শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে বাইশারী ইউনিয়নের ছাদুঅং পাড়া ধুংছাই মার্মার বৌদ্ধ মন্দিরের সামনে থেকে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়, গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে কাঠ ব্যবসায়ী জাফর আলম বাবুল বাড়ি থেকে বের হন। রাতে তিনি বাড়িতে ফেরেননি। আজ সকাল সাড়ে ৭টার দিকে স্থানীয় লোকজন ছাধঅং পাড়া বৌদ্ধ বিহারের সামনে তার মরদেহটি পড়ে থাকতে দেখে পরিবারকে খবর দেয়। খবর পেয়ে বাইশারী তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) মনিরুজ্জামান ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যমতে, বৌদ্ধ বিহারের ভেতরে ধুমচাই মার্মার ছেলে অংকিয় চিং মার্মা অবস্থান করছিলেন। পরে তাকে সন্দেহজনক হিসেবে আটক করা হয়েছে। তবে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তার কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।
হত্যাকান্ডের ঘটনায় বাইশারীতে বাঙালিদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। খবর পেয়ে আশপাশের লোকজন সেখোনে ভিড় জমায়। সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থল পৌঁছে আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এরপর সেনাবাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক বলেন, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তকরণ এবং ঘটনার পারিপার্শ্বিক বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বাইশারী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মনিরুজ্জামান বলেন, মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতসহ হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে আইনগত ও তদন্তমূলক কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
এদিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য অংজাই চাক বলেন, ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি না করার জন্য স্থানীয়দের প্রতি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করার অনুরোধ জানিয়েছেন।

আলাউদ্দিন শাহরিয়ার, বান্দরবান
সিহাব উদ্দিন, বান্দরবান (নাইক্ষ্যংছড়ি)