নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সূচি, দেখা পাচ্ছেন না বিএনপি নেতাকর্মী ও প্রবাসীরা
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তবে সফর সংক্ষিপ্ত হওয়ার কারণে এবার স্থানীয় প্রবাসী ও বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাঁর দেখা হচ্ছে না। বাতিল করা হয়েছে প্রবাসীদের উদ্যোগে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানও। প্রবাসীদের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাতের সুযোগ না থাকায় নিউইয়র্ক প্রবাসী বাংলাদেশি ও দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে কিছুটা হতাশা দেখা গেছে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে প্রবাসীদের আগ্রহের কমতি নেই। প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে স্বাগত মিছিল ও ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় ও বাংলাদেশ থেকে আসা সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নের জবাব দেন বিএনপিনেতারা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন খোকন। তিনি বলেন, ‘আগামী ২১ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীকে জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে স্বাগত জানাতে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এটি ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের প্রথম ঐতিহাসিক সফর।’
আনোয়ার হোসেন খোকন আরও বলেন, নিউইয়র্কে ব্যস্ত সময়সূচি এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক থাকায় ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে ভাষণ দেওয়ার পরদিনই দেশের উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী।
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য গিয়াস আহমেদ বলেন, ‘প্রবাসীরা বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়নের অন্যতম প্রধান অংশীদার। প্রবাসীদের বিনিয়োগ, দক্ষতা ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগকে দেশের কাজে কীভাবে আরও কার্যকরভাবে লাগানো যায়—সেটাই আমাদের মূল প্রত্যাশা। সংবর্ধনা ও মতবিনিময় সভার সব প্রস্তুতি আমরা চূড়ান্ত করেছিলাম, কিন্তু সময়ের স্বল্পতায় তা বাতিল করতে হয়। এতে নেতাকর্মীরা স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা মর্মাহত।’
যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা জিল্লুর রহমান প্রবাসীদের অবদানের কথা স্মরণ করে নেতাকর্মীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী দীর্ঘ আন্দোলনে প্রবাসীদের ভূমিকা ছিল অনন্য। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে সফল ও সুশৃঙ্খল করতে বিএনপির সব স্তরের নেতাকর্মীদের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আইন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হচ্ছে।’
যুবদলের সাবেক তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক তোফায়েল লিটন চৌধুরী বলেন, ‘দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে আমেরিকার প্রবাসীরা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে সক্রিয় ছিল। প্রিয় নেতাকে সরাসরি দেখা ও তার কথা শোনার জন্য এখানকার কর্মীরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন।’
সংবাদ সম্মেলন শেষে জ্যাকসন হাইটসের রাস্তায় খণ্ড খণ্ড আনন্দ ও স্বাগত মিছিল বের করেন বিএনপির অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনের মধ্য দিয়ে বিশ্বমঞ্চে এটিই হতে যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম ভাষণ। এই ভাষণে তিনি ‘নতুন বাংলাদেশ’ এর গঠনমূলক রোডম্যাপ, রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান, সরকারের অগ্রাধিকারমূলক সংস্কার কার্যক্রম এবং বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক উত্তরণের সার্বিক চিত্র বিশ্বনেতাদের সামনে তুলে ধরবেন।

জাকের হোসেন, নিউইয়র্ক থেকে