যমুনাপাড়ে টিনের চর যেন কাশফুলের স্বর্গরাজ্য
শরতের নীল আকাশ। তুলোর মতো সাদা মেঘের ভেলা। তার নিচে যমুনার তীরজুড়ে দিগন্তবিস্তৃত সাদা কাশফুল। বাতাসের দোলায় কাশফুলগুলো যেন মেলে ধরেছে শুভ্র ডানা। নদীর বুকে ছুটে চলছে নৌকা। সব মিলিয়ে প্রকৃতির অপরূপ সাজে সেজেছে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার টিনের চর।
বিস্তীর্ণ চরজুড়ে ফুটে থাকা কাশফুলের সৌন্দর্য দেখতে সকাল থেকেই এখানে ভিড় করছেন প্রকৃতিপ্রেমীরা। কেউ আসছেন নৌকায়, কেউ বা হেঁটে। পরিবার-পরিজন কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে যমুনার তীর ও চরাঞ্চলে ছুটে আসছেন তারা।
নদীর তীরজুড়ে মাইলের পর মাইল সাদা কাশফুলের সমারোহ। দূর থেকে তাকালে মনে হয়, বিশাল চরটি যেন সাদা চাদরে মোড়ানো। কাশবনের ভেতর দিয়ে হেঁটে বেড়ানো, ছবি তোলা কিংবা নদীর পাড়ে বসে নির্মল বাতাস উপভোগ—নিজেদের মতো করে সময় কাটাচ্ছেন দর্শনার্থীরা।
কাশফুলের শুভ্রতার সঙ্গে নীল আকাশ আর যমুনার জলরাশির মেলবন্ধন তৈরি করেছে ভিন্ন এক আবহ। প্রকৃতির এই সৌন্দর্য মুঠোফোনের ক্যামেরায় ধরে রাখতে ব্যস্ত দর্শনার্থীরা। কেউ একা, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে, আবার কেউ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ছবি তুলছেন কাশবনে।
এক দর্শনার্থী বলেন, ‘কাশফুলের জায়গাটা খুব সুন্দর। নদীর পাড়ে এসে প্রকৃতির এমন পরিবেশ খুব ভালো লাগছে।’
শুধু কয়েক ঘণ্টার জন্য ঘুরতে আসছেন এমন নয়, কেউ কেউ আবার তাবু টানিয়ে দিন কাটাচ্ছেন টিনের চরেই। নদীর বাতাস, কাশফুলের দোলা আর প্রিয়জনদের সঙ্গে আড্ডায় কেটে যাচ্ছে সময়।
বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে আসা আরেক দর্শনার্থী বলেন, ‘বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে এসেছি। জায়গাটা অনেক সুন্দর। সারা দিন এখানে থাকব, বেশ ভালো লাগছে।’
শরতের এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে দর্শনার্থীদের আনাগোনা বাড়লেও এর সঙ্গে বাড়ছে পরিবেশ রক্ষার দায়িত্বও। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দর্শনার্থীরা কাশফুল নষ্ট করবেন না এবং যত্রতত্র আবর্জনা ফেলবেন না। প্রকৃতির স্বাভাবিক সৌন্দর্য অক্ষুণ্ন রাখলে টিনের চর হয়ে উঠতে পারে আরও আকর্ষণীয় একটি প্রাকৃতিক ভ্রমণস্থল।

এহসানুল মাহবুব, জামালপুর (বকশীগঞ্জ-দেওয়ানগঞ্জ-ইসলামপুর)