তালাবদ্ধ ঘরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকার হাত-পা বাঁধা মরদেহ
একা থাকতেন অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষিকা আমেনা খানম (৬৫)। হঠাৎ তার ভাড়া বাসার ঘর থেকে দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করে। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে দেখে, দরজায় তালা। পরে তালা খুলে খাটের ওপর হাত-পা বাঁধা অবস্থায় তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়।
এ ঘটনায় বরিশাল নগরীতে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে বরিশাল নগরীর ভাটিখানা রোকেয়া আজিম সড়কের খালপাড় এলাকার একটি বাসার দ্বিতীয় তলা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। বিকেলে এ তথ্য নিশ্চিত করেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার সুশান্ত সরকার।
নিহত আমেনা খানম মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা। তিনি উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা শেষে অবসর নেন। প্রায় এক বছর আগে তিনি ওই বাসার দ্বিতীয় তলা ভাড়া নিয়ে একাই বসবাস শুরু করেন। তার ছেলে রিফাত ঢাকায় একটি বেসরকারি ব্যাংকে চাকরি করেন।
পুলিশ জানায়, গতকাল বুধবার রাতে আমেনা খানমের কক্ষের পাশের ভাড়াটিয়ারা দুর্গন্ধ পান। বিষয়টি বাড়ির মালিকের স্ত্রী রিনা বেগমকে জানানো হয়। পরে তিনি আমেনার ছেলে রিফাতকে খবর দেন। রিফাত পুলিশকে জানালে ভোরে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। গিয়ে বাসার দরজা তালাবদ্ধ দেখতে পায়। এরপর তালা খুলে ভেতরে প্রবেশ করে খাটের ওপর আমেনা খানমের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে। তার হাত-পা কাপড় দিয়ে বাঁধা ছিল।
বাড়ির মালিকের স্ত্রী রিনা বেগম জানান, প্রায় এক বছর ধরে আমেনা খানম তাদের বাসার দ্বিতীয় তলায় থাকতেন। তিনি একাই বসবাস করতেন। গতকাল বুধবার রাতে পাশের ভাড়াটিয়ারা দুর্গন্ধ পাওয়ার পর তাকে বিষয়টি জানান। পরে তিনি আমেনার ছেলেকে খবর দেন।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার সুশান্ত সরকার বলেন, ছেলের কাছ থেকে ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। বাসার দরজা তালাবদ্ধ ছিল। তালা খুলে ভেতরে খাটের ওপর আমেনা খানমের মরদেহ পাওয়া যায়। তার হাত-পা কাপড় দিয়ে বাঁধা ছিল।
সুশান্ত সরকার আরও বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে এর সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

আকতার ফারুক শাহিন, বরিশাল