সাউথইস্ট ব্যাংকের সোয়া ২ কোটি টাকা আত্মসাৎ, বিএনপিনেতা কারাগারে
সাউথইস্ট ব্যাংকের ২ কোটি ২৩ লাখ টাকা আত্মসাতের মামলায় পাবনার ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সদস্য সচিব ইমরুল কায়েস সুমনের স্থায়ী জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুরে পাবনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এ হাজির হয়ে স্থায়ী জামিনের আবেদন করেন ইমরুল কায়েস সুমন। শুনানি শেষে বিচারক শাহিন কবির তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে পাবনা জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আদালত ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সাউথইস্ট ব্যাংকের ঈশ্বরদী শাখার দায়ের করা ২ কোটি ২৩ লাখ টাকা আত্মসাতের মামলাটি জিআর ২০৩/১৯ নম্বরে নথিভুক্ত। এ মামলায় ইমরুল কায়েস সুমন অন্যতম প্রধান আসামি। রোববার তিনি আদালতে উপস্থিত হয়ে স্থায়ী জামিনের আবেদন করলে মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় আদালত তা নামঞ্জুর করেন। পরে পুলিশি পাহারায় তাকে পাবনা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার নথি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা যায়, ব্যাংকের ব্যবসায়িক ক্যাশ ক্রেডিট (সিসি) লিমিটের বিপরীতে বিপুল পরিমাণ অর্থ নেওয়ার পর তা পরিশোধ না করার অভিযোগ রয়েছে ইমরুল কায়েস সুমনের বিরুদ্ধে। একপর্যায়ে তিনি সপরিবারে আত্মগোপনে চলে যান বলে অভিযোগ করা হয়। এ ঘটনায় ২০১৯ সালের ১১ এপ্রিল সাউথইস্ট ব্যাংকের পক্ষ থেকে ঈশ্বরদী থানায় মামলা করা হয়।
পরবর্তীতে তদন্তে ব্যাংকের কয়েকজন কর্মকর্তার যোগসাজশের অভিযোগও উঠে আসে। এ ঘটনায় ২০২৩ সালের জুনে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সাউথইস্ট ব্যাংকের পাঁচ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পৃথক মামলা করে। ওই মামলায় প্রায় ১ কোটি ৭৭ লাখ টাকা আত্মসাতে সহায়তার অভিযোগ আনা হয়। তদন্তে ব্যাংকের নিয়মবহির্ভূতভাবে জামানত ছাড়াই ইমরুল কায়েস সুমনকে ওভারড্রাফট ও ঋণ সুবিধা দেওয়ার তথ্য উঠে আসে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়।
এদিকে ব্যাংক ঋণসংক্রান্ত মামলা ও চেক জালিয়াতির মামলায় ইমরুল কায়েস সুমনের বিরুদ্ধে আদালতের রায়ের বিষয়টিও স্থানীয়ভাবে আলোচনায় রয়েছে। সম্প্রতি তাকে ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সদস্য সচিব পদে মনোনীত করা হলে এ নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে সমালোচনা শুরু হয়। বিচারাধীন ও আর্থিক অনিয়মসংক্রান্ত মামলার আসামিকে গুরুত্বপূর্ণ দলীয় পদ দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে বিএনপির তৃণমূলের একাংশের মধ্যে ক্ষোভও দেখা দেয় বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
সাউথ ইস্ট ব্যাংক পাবনা শাখার জোনাল ম্যানেজার একেএম মতিউর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ব্যাংকের সঙ্গে প্রতারণা করে টাকা নেওয়া হয়েছিল। সেই মামলায় আসামিকে আদালত কারাগারে পাঠিয়েছে।
রোববার তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর খবর ছড়িয়ে পড়লে ঈশ্বরদী ও পাবনার রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে বিএনপির পক্ষ থেকে কোন নেতার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বি এম ফজলুর রহমান, পাবনা