ভৈরবে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ১৩ পরিবারকে টিন, অর্থ ও খাদ্য সহায়তা দিলেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে আগুনে সর্বস্ব হারানো ১৩টি নিঃস্ব পরিবারের মাঝে প্রাথমিক সহায়তা হিসেবে ঢেউটিন, নগদ অর্থ ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম। সোমবার (৫ অক্টোবর) দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর হাতে এসব ত্রাণসামগ্রী তুলে দেন তিনি।
প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে দুই বান করে ঢেউটিন, নগদ ৩৬ হাজার টাকা এবং ১০ কেজি করে জরুরি খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হয়।
সহায়তা প্রদানের সময় প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম বলেন, আজকে দেওয়া এই সহায়তা মূলত তাৎক্ষণিক ও প্রাথমিক ব্যবস্থা। অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের ঘরবাড়ি পুনর্নির্মাণসহ আরও স্থায়ী সহায়তার বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও ত্রাণমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বিএনপি সরকার জনগণের সরকার, তাই যেকোনো দুর্যোগ ও বিপদে সরকার ও দল সর্বাগ্রে সাধারণ মানুষের পাশে গিয়ে দাঁড়ায়।
ত্রাণ বিতরণের আগে প্রতিমন্ত্রী অগ্নিকাণ্ডে ভস্মীভূত হওয়া ১৩টি বসতবাড়ি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন।
বিতরণকালে ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক কে. এম. মামুনুর রশীদ, উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি আবুল বাশার, সাংগঠনিক সম্পাদক ভিপি সাইফুল হক ও মো. নূরুজ্জামান, পৌর বিএনপির সভাপতি হাজী শাহিন এবং সাধারণ সম্পাদক ভিপি মুজিবুর রহমানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
গত ১ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) রাতে ভৈরব পৌরসভার চণ্ডিবের দক্ষিণ এলাকায় বৈদ্যুতিক গোলযোগ (শর্ট সার্কিট) থেকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে ১৩টি বসতঘরের যাবতীয় মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়, ফলে পরিবারগুলো রাতারাতি সম্পূর্ণ নিঃস্ব হয়ে পড়ে।
এদিকে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম শেষে প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম চণ্ডিবের এলাকার হিন্দু পাড়ায় প্রায় এক কোটি টাকা ব্যয়ে গৃহীত অবকাঠামোগত উন্নয়নকাজের ফলক উন্মোচন করে শুভ উদ্বোধন করেন এবং সেখানে একটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন। এ সময় পৌর নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফ সারোয়ার বাতেন ও পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফারুক হোসেনসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মোস্তাফিজ আমিন, ভৈরব