বায়ুদূষণে আজ শীর্ষে কুয়ালালামপুর, দ্বিতীয় ঢাকা
বায়ুদূষণে বিশ্বে শীর্ষ শহরগুলোর তালিকায় আজ উঠে এসেছে রাজধানী শহর ঢাকার নাম। বিশ্বের প্রধান শহরগুলোর বায়ুমান তালিকায় আজ বুধবার (৭ অক্টোবর) সকাল ৬টা থেকে ৭টার লাইভ এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স অনুযায়ী, ঢাকা ১৮২ স্কোর নিয়ে বিশ্ব তালিকায় যৌথভাবে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে।
সুইজারল্যান্ডভিত্তিক আন্তর্জাতিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আইকিউ এয়ারের ওয়েবসাইটের তথ্যমতে, ১৮২ একিউআই স্কোর বাতাসের ‘অস্বাস্থ্যকর’ মান নির্দেশ করে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) যেখানে ২৪৬ স্কোর নিয়ে ঢাকা তালিকার শীর্ষে ছিল, সেখানে আজ সামান্য উন্নতি হলেও বাতাসের সার্বিক মান এখনও জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ রয়ে গেছে।
তালিকায় সর্বোচ্চ ২১১ স্কোর নিয়ে বিষাক্ত বাতাসের শীর্ষে রয়েছে মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুর। আর ১৮২ স্কোর নিয়ে ঢাকার সঙ্গে যৌথভাবে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ভারতের কলকাতা। তালিকায় পরবর্তী স্থানগুলোতে রয়েছে ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা (১৭১), সিঙ্গাপুর (১৬৬), ভারতের দিল্লি (১৬২), পাকিস্তানের লাহোর (১৫৭), ভিয়েতনামের হো চি মিন সিটি (১৫৫), হ্যানই (১৫২) ও চীনের সাংহাই (১৫১)।
আইকিউ এয়ার ইনডেক্স অনুযায়ী, স্কোর শূন্য থেকে ৫০-এর মধ্যে থাকলে বায়ুর মান ভালো বলে বিবেচিত হয়। বায়ুর মান ৫১ থেকে ১০০ হলে মাঝারি বা সহনীয় ধরা হয়। সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচিত হয় ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর। ১৫১ থেকে ২০০ পর্যন্ত ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হয়। স্কোর ২০১ থেকে ৩০০ হলে বায়ু ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ বলে বিবেচনা করা হয়। এছাড়া ৩০১-এর বেশি হলে তা ‘দুর্যোগপূর্ণ’ বলে বিবেচিত হয়।
শীতকালে বৃষ্টিপাত না থাকা এবং শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে বায়ুদূষণ কয়েক গুণ বেড়ে যায়। ঢাকার বায়ুদূষণের জন্য অপরিকল্পিত রাস্তা খনন ও নির্মাণাধীন ভবন থেকে ওড়া ধুলিকণা ও ফিটনেসবিহীন যানবাহনের কালো ধোঁয়াকে বিশেষভাবে দায়ী করা হয়।
দীর্ঘদিন ধরে এমন দূষিত বাতাসে নিশ্বাস নেওয়ার ফলে ফুসফুসের সংক্রমণ, শ্বাসকষ্ট, হৃদরোগ এবং দীর্ঘ মেয়াদে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ছে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগীদের জন্য এই আবহাওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
পরিবেশবিদদের মতে, শুষ্ক মৌসুমে ধুলাবালি এবং নির্মাণকাজের ধোঁয়ার কারণে ঢাকায় বাতাসের মান ক্রমাগত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সকালে প্রাতঃভ্রমণে বের হওয়া ব্যক্তি ও শিশুদের বাইরে বের হওয়ার সময় সুরক্ষামূলক মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক