ভিজিএফের চাল বেচাকেনায় ব্যবসায়ীর দণ্ড, জব্দ চাল এতিমখানায় দান
জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় নিবন্ধিত জেলেদের জন্য বরাদ্দ করা সরকারি ভিজিএফের চাল অবৈধভাবে বেচাকেনা ও মজুতের দায়ে এক খাদ্য ব্যবসায়ীকে জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একইসঙ্গে উদ্ধার করা ২৫০ কেজি চাল জব্দ করে স্থানীয় এতিমখানায় দান করা হয়েছে।
আজ বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে মাদারগঞ্জ পৌরসভার বালিজুড়ী বাজারে অভিযান চালিয়ে এ দণ্ডাদেশ দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুমন চৌধুরী। এসময় মাদারগঞ্জ মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাজেদুল ইসলাম ফোর্সসহ উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা প্রশাসন জানায়, ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে ২২ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞাকালে কর্মহীন জেলেদের সহায়তায় চরপাকেরদহ ইউনিয়নের ১৮০ জন নিবন্ধিত জেলের মধ্যে ২৫ কেজি করে ভিজিএফের চাল বিতরণ করা হয়। চাল বিতরণের পর পরই স্থানীয় একটি সিন্ডিকেট ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের সামনে থেকে সুবিধাভোগী কয়েকজন জেলের কাছ থেকে কম দামে চাল কিনে নেয়। পরে সেই চাল বালিজুড়ী বাজারের খাদ্য ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলামের দোকানে চড়া দামে বিক্রির উদ্দেশে পরিবহণ করা হচ্ছিল।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসন বালিজুড়ী বাজারে তাৎক্ষণিক অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানকালে শহিদুল ইসলামের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা একটি অটোরিকশা থেকে ১০ বস্তায় মোট ২৫০ কেজি ভিজিএফের চাল জব্দ করা হয়।
ঘটনার সত্যতা পেয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত ‘খাদ্যদ্রব্য উৎপাদন, মজুত, স্থানান্তর, পরিবহণ, সরবরাহ, বিতরণ ও বিপণন (নিয়ন্ত্রণ) আইন’-এ ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলামের ছেলে মাফিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। অনাদায়ে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হলে ব্যবসায়ী তাৎক্ষণিক জরিমানার অর্থ পরিশোধ করেন। জব্দ করা চাল পরবর্তীতে উপজেলার কয়েকটি স্থানীয় এতিমখানায় বিতরণ করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমন চৌধুরী জানান, সরকারি সুবিধার চাল ক্রয় কিংবা বিক্রয় দুটোই আইনত গুরুতর অপরাধ। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি খাদ্যের অনিয়ম রুখতে এ ধরনের ঝটিকা অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হবে।

নাহিদ হাসান, জামালপুর (সদর-মেলান্দহ)