ঢাকার বায়ুমানের আজ সামান্য উন্নতি, অবস্থান কত?
বিশ্বের প্রধান শহরগুলোর বায়ুমান তালিকায় ঢাকার অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল ৭টা থেকে ৮টার লাইভ এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স অনুযায়ী, ঢাকার স্কোর ১৬৮ নেমে এসেছে এবং বিশ্ব তালিকায় রাজধানী ঢাকা ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে।
সুইজারল্যান্ডভিত্তিক আন্তর্জাতিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আইকিউ এয়ারের ওয়েবসাইটের তথ্যমতে, ১৬৮ একিউআই স্কোর বাতাসের ‘অস্বাস্থ্যকর’ মান নির্দেশ করে। এর আগে গত ৭ অক্টোবর ঢাকার স্কোর ছিল ১৮২ এবং ৬ অক্টোবর তা ২৪৬ (খুবই অস্বাস্থ্যকর) ছিল। যদিও বায়ুমানের কিছুটা উন্নতি ঘটেছে, তবুও বাতাসের এই পরিস্থিতি এখনও নগরবাসীর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। তালিকায় ২১৫ স্কোর নিয়ে শীর্ষে রয়েছে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর। এছাড়া ২০৬ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে পাকিস্তানের লাহোর।
তালিকায় পরবর্তী স্থানগুলোতে রয়েছে ভারতের দিল্লি (১৮২), মুম্বাই (১৭৯), কঙ্গোর কিনশাসা (১৭৮), ঢাকা (১৬৮), ভারতের কলকাতা (১৬৭), ভিয়েতনামের হ্যানয় (১৬৬), সিঙ্গাপুর (১৫৫) ও ইতালির মিলান (১৫৪)।
আইকিউ এয়ার ইনডেক্স অনুযায়ী, স্কোর শূন্য থেকে ৫০-এর মধ্যে থাকলে বায়ুর মান ভালো বলে বিবেচিত হয়। বায়ুর মান ৫১ থেকে ১০০ হলে মাঝারি বা সহনীয় ধরা হয়। সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচিত হয় ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর। ১৫১ থেকে ২০০ পর্যন্ত ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হয়। স্কোর ২০১ থেকে ৩০০ হলে বায়ু ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ বলে বিবেচনা করা হয়। এছাড়া ৩০১-এর বেশি হলে তা ‘দুর্যোগপূর্ণ’ বলে বিবেচিত হয়।
শীতকালে বৃষ্টিপাত না থাকা এবং শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে বায়ুদূষণ কয়েক গুণ বেড়ে যায়। ঢাকার বায়ুদূষণের জন্য অপরিকল্পিত রাস্তা খনন ও নির্মাণাধীন ভবন থেকে ওড়া ধুলিকণা ও ফিটনেসবিহীন যানবাহনের কালো ধোঁয়াকে বিশেষভাবে দায়ী করা হয়।
দীর্ঘদিন ধরে এমন দূষিত বাতাসে নিশ্বাস নেওয়ার ফলে ফুসফুসের সংক্রমণ, শ্বাসকষ্ট, হৃদরোগ এবং দীর্ঘ মেয়াদে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ছে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগীদের জন্য এই আবহাওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
পরিবেশবিদদের মতে, শুষ্ক মৌসুমে ধুলাবালি এবং নির্মাণকাজের ধোঁয়ার কারণে ঢাকায় বাতাসের মান ক্রমাগত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সকালে প্রাতঃভ্রমণে বের হওয়া ব্যক্তি ও শিশুদের বাইরে বের হওয়ার সময় সুরক্ষামূলক মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক