জরাজীর্ণ ডাকঘর, ঝুঁকি নিয়ে চলছে সেবা
ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে, বেরিয়ে আছে মরিচা ধরা রড। কোথাও ভবনের দেয়াল ও ছাদের বিভিন্ন অংশ ভেঙে পড়ার উপক্রম। এমন ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশেই দাপ্তরিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন চাঁদপুরের মতলব উত্তর ও দক্ষিণ উপজেলার ডাক বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় কয়েকটি ডাকঘরের ভবন জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি নিজস্ব ভবন না থাকায় অনেক ব্রাঞ্চ পোস্ট অফিসের কার্যক্রম চলছে বিভিন্ন দোকান ও বাড়িতে।
বিশ্ব ডাক দিবস উপলক্ষে ডাক বিভাগের সেবার চিত্র সামনে আসার পাশাপাশি এসব অবকাঠামোগত সংকটও গুরুত্ব পাচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, দ্রুত সংস্কার কিংবা নতুন ভবন নির্মাণ করা না হলে যেকোনো সময় ঘটতে পারে দুর্ঘটনা।
জেলা পোস্ট অফিস সূত্রে জানা গেছে, মতলব উত্তর ও দক্ষিণ উপজেলায় দুটি সাব-পোস্ট অফিস ও একটি উপজেলা পোস্ট অফিসের আওতায় রয়েছে ৪৮টি ব্রাঞ্চ পোস্ট অফিস। এর মধ্যে মাত্র ১০ থেকে ১২টির নিজস্ব ভবন রয়েছে। বাকি অফিসগুলোর কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বিভিন্ন দোকান ও বাড়িতে। অন্যদিকে, নিজস্ব ভবন থাকা কয়েকটি ডাকঘরও রয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায়।
স্থানীয়রা জানান, জরাজীর্ণ ভবনের ছাদের পলেস্তারা ও মরিচা ধরা রড যেকোনো সময় খসে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে দ্রুত ভবনগুলো সংস্কার করা প্রয়োজন। যেসব ভবন সংস্কারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে, সেগুলো ভেঙে আধুনিক ভবন নির্মাণেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।
মতলব উত্তর উপজেলার দশানি ব্রাঞ্চ পোস্ট অফিসের ভবনটি নির্মাণ করা হয় ১৯৯২ সালে। দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় ভবনটির বিভিন্ন স্থানের পলেস্তারা খসে পড়েছে। ছাদের রড বেরিয়ে গেছে। কখনো মাথার ওপর, আবার কখনো অফিসের আসবাবপত্রের ওপর খসে পড়ছে ছাদের অংশ। এতে ঝুঁকির মধ্যেই চলছে দাপ্তরিক কার্যক্রম।
দশানি ব্রাঞ্চ পোস্ট অফিসের পোস্টমাস্টার গোলাম মাওলা জানান, ভবনটি ১৯৯২ সালে নির্মিত হয়েছে। নির্মাণের পর একবারও সংস্কার করা হয়নি। বর্তমানে এখানে বসে কাজ করার উপযোগী পরিবেশ নেই। পলেস্তারা খসে পড়ছে, যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। ভবনটি এখন পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।
একই উপজেলার মোহনপুর সাব-পোস্ট অফিসের ভবনের অবস্থাও নাজুক। ভবনের বিভিন্ন অংশ জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। পুরোনো হয়ে গেছে অফিসের আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামও। এরপরও চাকরির দায়িত্ব পালনে ঝুঁকি নিয়েই কাজ করছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
মোহনপুর সাব-পোস্টমাস্টার মাহবুব সরকার জানান, অফিসের অবস্থা খুবই খারাপ। কোনো রকমে বসে কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। চাকরির স্বার্থে অনেক কষ্ট করে এখানে দায়িত্ব পালন করছি। সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বারবার জানানোর পরও মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি জানান, পোস্ট অফিসগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করে বিভিন্ন কার্যালয়ের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হবে। জরাজীর্ণ ভবনগুলোর তালিকা তৈরি করে সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হবে।

শরীফুল ইসলাম, চাঁদপুর