সাবেক রাষ্ট্রদূতের স্ত্রীকে হত্যা : ছেলে কারাগারে, গৃহকর্মীর জবানবন্দি
ফিলিপাইনে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত প্রয়াত আবুল কাশেমের স্ত্রী আফিয়া আক্তারকে খুনের মামলায় ছেলে তাহসিন তারিক অর্ণবকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। রোববার (১ নভেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ কারাগারে প্রেরণের আদেশ দেন। অপরদিকে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলম নার্গিস বেগমের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করেন।
প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই শরিফুজ্জামান এনটিভি অনলাইনকে বিষয়টি জানিয়েছেন।
নথি থেকে জানা গেছে, ধানমন্ডির ৯/এ নম্বর সড়কের একটি ফ্ল্যাটে আফিয়া আক্তারকে খুনের ঘটনায় চিকিৎসক মেয়ে নাহরিন নাশিদ স্বর্ণা ছোট ভাই অর্ণবকে আসামি করে মামলা করেন। মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, অর্ণব কোনো কাজকর্ম করতো না। সে প্রায় মায়ের কাছে টাকা চাইতো। টাকা না দিলে ঝগড়া করতো এবং মাকে মেরে ফেলার হুমকি দিত।
গতকাল শনিবার (৩ে১ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে বাসার ম্যানেজার মাহবুব স্বর্ণাকে ফোন করে জানান, বাসার দারোয়ানের মাধ্যমে জানতে তিনি পেরেছেন তাদের বাসায় ঝামেলা হচ্ছে। তাৎক্ষণিকভাবে স্বর্ণা গৃহকর্মী নার্গিসকে ফোন করেন। নার্গিস স্বর্ণাকে জানান, অর্ণব আফিয়া আক্তারকে গলায় ছুরি দিয়ে আঘাত করে ডাইনিং রুমে ফেলে রেখেছে। স্বর্ণা মাহবুবকে ফোন করে তার মাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেন। আফিয়া আক্তারকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পরে স্বর্ণা গৃহকর্মী নার্গিসের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারেন, শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে আফিয়া আক্তার রাতের খাবার খেয়ে বেডরুমে ঘুমোতে যান। অর্ণব তার বেডরুমে ছিল।
আফিয়া আক্তারের চিৎকার শুনে ভোর সাড়ে ৫টার দিকে নার্গিস বেগম ডাইনিং রুমে যান। সেখানে গিয়ে দেখতে পান অর্ণব ছুরি হাতে দাঁড়িয়ে আছে, আর আফিয়া আক্তারকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন। নার্গিস বেগম আফিয়া আক্তারকে ধরতে গেলে অর্ণব তাকেও ছুরি দেখিয়ে মেরে ফেলার হুমকি দেয় এবং বাসা থেকে বের করে দিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয়। তারপর অর্ণব মায়ের মৃত্যু নিশ্চিত করে বাসা থেকে বের হয়ে যায়।
মামলা দায়ের করার পর ধানমন্ডি এলাকা থেকে অর্ণবকে গ্রেপ্তার করার কথা জানায় পুলিশ।

আদালত প্রতিবেদক