সাজেকে আটকেপড়া পর্যটকরা নিরাপদে খাগড়াছড়ি ফিরেছে
দীঘিনালা সাজেক সড়কের উজোবাজার এলাকায় পুলিশ-সেনাবাহিনীর সঙ্গে অবরোধকারীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। নিরাপত্তা বাহিনী পিকেটারদের লাঠচার্জ করে রাস্তা থেকে সরিয়ে দিয়ে আটকেপড়া পর্যটকদের নিরাপদে খাগড়াছড়ি পৌঁছে দিয়েছে।
বাঘাইছড়ি সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোজাম্মেল হক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে অবরোধকারীরা পর্যটকদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়লে সাত পর্যটকসহ কয়েকজন সেনাসদস্য আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পর্যটকরা উজোবাজার ত্যাগ করার পর সন্ত্রাসীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলি বিনিময়ের খবর পাওয়া গেছে। ইউপিডিএফ সমর্থিত পিকেটার ও সশস্ত্র সদস্যরা সেনাবাহিনীর ওপর গুলি চালিয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
নিরাপত্তাবাহিনী সূত্রে জানা গেছে, আটকেপড়া প্রায় তিন হাজার পর্যটককে নিরাপদে খাগড়াছড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বাঘাইহাট জোন সকাল ৯টায় নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় পর্যটকদের নিয়ে খাগড়াছড়ির উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। সকাল ১০টার দিকে অবরোধকারীরা গঙ্গারাম এলাকার উজোবাজার এলাকায় সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়। সেনাবাহিনী ও পুলিশের টহলদল পর্যটকদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে অবরোধকারীদের সঙ্গে আলোচনা ও মধ্যস্থতা করে। বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটের দিকে অবরোধকারীরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও পর্যটকদের লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের উপর লাঠিচার্জ করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পরে অবরোধকারীদের সরিয়ে উজোবাজার এলাকা কর্ডন করে সাজেকে আটকেপড়া পর্যটকদের নিরাপদে খাগড়াছড়ি পৌঁছে দেয়।
প্রত্যক্ষদশীরা জানায়, আজ বেলা আনুমানিক ১১টার দিকে ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও পর্যটকদের লক্ষ্য করে আনুমানিক ৩০–৪০ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এ সময় সেনা টহল দল পর্যটকদের নিরাপত্তার স্বার্থে পাল্টা গুলি করলে সশস্ত্র হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
সর্বশেষ দুপুর ১টার দিকে আটকেপড়া পর্যটকদের খাগড়াছড়ির শাপলা চত্বর পার হতে দেখা গেছে। এ সময় তারা রাস্তায় অবরোধ ও অবর্ণনীয় দুর্ভোগের কথা জানান স্থানীয় সাংবাদিকদের।
সহকারী পুলিশ সুপার মোজাম্মেল হক বলেন, পর্যটকদের নিরাপদে খাগড়াছড়ি পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এই অন্দোলনে ইউপিডিএফ সাধারণ জনগণকে ব্যবহার করছে।
মোজাম্মেল হক আরও বলেন, বর্তমানে ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সেনাবাহিনীর নিরাপত্তা টহল জোরদার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজন হামলাকারী ও ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে আইনানুগ কার্যক্রম ও বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আবু তাহের মুহাম্মদ, খাগড়াছড়ি