দুর্বল কোম্পানির শেয়ারদরে ঊর্ধ্বগামী প্রবণতা
দেশের শেয়ারবাজারে চলতি সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবস আজ সোমবার দুর্বল ও স্বল্প মূলধনি কোম্পানির শেয়ারদরে ঊর্ধ্বগামী প্রবণতা দেখা গেছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) দাম বাড়ার তালিকায় শীর্ষে থাকা ১০টি কোম্পানির মধ্যে বেশির ভাগই ছিল এ ধরনের শেয়ার।
ডিএসইতে আজ দাম বাড়ায় এগিয়ে থাকা ১০ কোম্পানি হচ্ছে- হাক্কানী পাল্প, আজিজ পাইপস, আনোয়ার গ্যালভানাইজিং, মুন্নু সিরামিক, ইমাম বাটন, অলটেক্স, ফার কেমিক্যাল, সমতা লেদার, গোল্ডেন সন ও লিগ্যাসি ফুটওয়্যার।
ডিএসইর বি ক্যাটাগরির অন্তর্ভুক্ত কোম্পানি হাক্কানী পাল্পের পরিশোধিত মূলধন ১৯ কোটি টাকা। ২০১০-২০১৪ সার পর্যন্ত কোম্পানিটি প্রতিবছর ৫ শতাংশ করে নগদ লভ্যাংশ দিয়ে এসেছে। আর ২০১৫ সালের ৩০ জুন শেষ হওয়া হিসাব বছরের জন্যও কোম্পানিটি ৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে। আজ এ শেয়ারের দাম বেড়েছে ৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ বা ৪ টাকা। লেনদেন শেষে এর দাম দাঁড়িয়েছে ৪৪ টাকা ৬০ পয়সা। সর্বশেষ আর্থিক প্রতিবেদন ও বাজার দামের ভিত্তিতে এর দাম-আয় অনুপাত (পিই রেশিও) ৯৯ দশমিক ১১।
জেড ক্যাটাগরির আজিজ পাইপসের সম্পদের চেয়ে দায় প্রায় দ্বিগুণ। পুঞ্জীভূত লোকসানের পরিমাণ ৪০ কোটি ১৯ লাখ টাকা। ২০০২ সাল থেকে এ পর্যন্ত কোনো লভ্যাংশ দেয়নি কোম্পানিটি। তবে আজ এ শেয়ারের দাম ৯ দশমিক ৩২ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২ টাকা ৮০ পয়সায়।
এ ছাড়া বি ক্যাটাগরির আনোয়ার গ্যালভানাইজিংয়ের ৯ দশমিক ১২ শতাংশ, বি ক্যাটাগরির মুন্নু সিরামিকসের ৮ দশমিক ৭১ শতাংশ, জেড ক্যাটাগরির ইমাম বাটনের ৮ দশমিক ৪৩ শতাংশ, জেড ক্যাটাগরির সমতা লেদারের ৭ দশমিক ৩৪ শতাংশ ও বি ক্যাটাগরির লিগ্যাসি ফুটওয়্যারের ৬ দশমিক ৮৩ শতাংশ দাম বেড়েছে।
বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, দেশের শেয়ারবাজারে বড় অংশ বিনিয়োগ আসে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে। কিন্তু সরকার ও নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার কঠোরতার কারণে সম্প্রতি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ থেকে সরে রয়েছে। এ কারণে বাজারে গুজব নির্ভরতা বাড়ার পাশাপাশি লেনদেন কমছে।
ডিএসইতে ৩১৮টি কোম্পানির সাত কোটি ৫৮ লাখ পাঁচ হাজার ৩২৪টি শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়েছে। মোট লেনদেনের পরিমাণ ২৯০ কোটি ৫২ লাখ ৩৩ হাজার ৩৭৫ টাকা, যা আগের দিনের চেয়ে ২২ কোটি ৬৮ লাখ টাকা বেশি। লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে দাম বেড়েছে ১৫২টির, কমেছে ১২০টির ও অপরিবর্তিত ছিল ৪৬টির দাম।
ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আজ আগের দিনের চেয়ে ২১.২০ পয়েন্ট বেড়ে ৪৫৩৬.০৫, ডিএস-৩০ মূল্যসূচক ১৩.৪৬ পয়েন্ট বেড়ে ১৭২২.৪৯ এবং ডিএসইএস শরিয়াহ সূচক ১০.৯৮ পয়েন্ট বেড়ে ১০৯২.২৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) আজ লেনদেন হয়েছে ২০ কোটি ৪৫ লাখ ৫৭ হাজার টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড। লেনদেন বেড়েছে তিন কোটি ৫০ লাখ টাকা। লেনদেন হওয়া ২৩২টি কোম্পানির মধ্যে দাম বেড়েছে ১১০টির, কমেছে ৯৪টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ২৮টির দাম। সিএসইর সার্বিক সূচক আজ বেড়েছে ৮৫ পয়েন্ট। এ ছাড়া অন্যান্য সূচকেও ঊর্ধ্বগামী প্রবণতা ছিল।
ডিএসইতে টাকার পরিমাণে লেনদেনে এগিয়ে থাকা ১০টি কোম্পানি হলো : ইফাদ অটোস, স্কয়ার ফার্মা, গ্রামীণফোন, লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট, বেক্সিমকো ফার্মা, কেডিএস অ্যাকসেসরিজ, মোজাফ্ফর হোসাইন স্পিনিং, কাশেম ড্রাইসেল, শমরিতা হাসপাতাল ও কেপিসিএল।
দাম বাড়ায় এগিয়ে থাকা ১০টি কোম্পানি হলো : হাক্কানী পাল্প, আনোয়ার গ্যালভানাইজিং, মুন্নু সিরামিকস, স্ট্যান্ডার্ড ইন্স্যুরেন্স, ফার কেমিক্যাল, অলটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ, গোল্ডেন সন, লিগ্যাসি ফুটওয়্যার, স্ট্যান্ডার্ড সিরামিক ও অলিম্পিক অ্যাকসেসরিজ।
বেশি দাম হারানো ১০টি কোম্পানি হলো : শ্যামপুর সুগার, ড্যাফোডিল কম্পিউটার্স, বিডি অটোকারস, রহিমা ফুড, শমরিতা হাসপাতাল, মিরাকল ইন্ডাস্ট্রিজ, অগ্রণী ইন্স্যুরেন্স, তাল্লু স্পিনিং, নিটল ইন্স্যুরেন্স ও মালেক স্পিনিং।

অর্থনীতি ডেস্ক