বছরজুড়ে প্রবাসী আয়ে চমক, বেড়েছে রিজার্ভ
প্রবাসীদের অর্থে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে দেশের অর্থনীতি। এবার প্রবাসীদের পাঠানো আয়ে চমক ছিল বছরজুড়ে। এর ফলে অন্যান্য যেকোনো বারের চেয়ে এবারে প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) বেশি এসেছে। গত বছরের (২০২৪) তুলনায় চলতি বছরের (২০২৫) প্রবাসী আয় বেড়েছে ৫৪৫ কোটি ৩৬ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার বা ২০ দশমিক ২৮ শতাংশ। একইসঙ্গে দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ বেড়েছে ৬৫৮ কোটি ৩৫ লাখ ২০ হাজার ডলার বা ২৫ দশমিক ১১ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
চলতি বছর (জানুয়ারি থেকে ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত) প্রবাসী আয় এসেছে তিন হাজার ২৩৪ কোটি ২০ লাখ ৭০ হাজার ডলার। গত বছর (জানুয়ারি-ডিসেম্বর) এসেছিল দুই হাজার ৬৮৮ কোটি ৮৪ লাখ ২০ হাজার কোটি ডলার। অপরদিক গত ২৫ ডিসেম্বর দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ ছিল তিন হাজার ২৭৯ কোটি ৮৩ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ পদ্ধতি অনুযায়ী, এই রিজার্ভের পরিমাণ দুই হাজার ৮১১ কোটি ২৩ লাখ ডলার। গত বছরের ডিসেম্বরে দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ ছিল দুই হাজার ৬২১ কোটি ৪৮ লাখ ডলার। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের বিপিএম-৬ পদ্ধতি অনুযায়ী, রিজার্ভের পরিমাণ ছিল দুই হাজার ১৩৯ কোটি ৪৭ লাখ ডলার।
চলতি বছরের প্রথম দিকে প্রবাসী আয় কম এলেও গত মার্চে তা গতি লাভ করে। জানুয়ারিতে প্রবাসী আয় ২১৮ কোটি ৫২ লাখ ডলার হলেও পরে তা বেড়ে মার্চে প্রবাসী আয় এসেছিল ৩২৯ কোটি ৫৬ লাখ ডলার। কিন্তু পরে তা কমে আগস্টে প্রবাসী আয় এসেছিল ২৪২ কোটি ১৯ লাখ ডলার। সেখান থেকে বেড়ে নভেম্বরে ২৮৮ কোটি ৯৪ লাখ ডলারের ঘরে চলে এসেছে। অপরদিক গত বছরের (২০২৪) প্রথমদিকে প্রবাসী আয়ে নিম্নগতি থাকলেও জুনে ঊর্ধ্বগতি দেখা যায়। কিন্তু পরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের কারণে জুলাইয়ে তা নিম্নগতিতে নেমে আসে। ওই বছরের জানুয়ারিতে প্রবাসী আয় ২১১ কোটি ৩১ লাখ ডলার হলেও পরে তা বেড়ে গত জুনে প্রবাসী আয় এসেছিল ২৫৩ কোটি ৮৬ লাখ ডলার। কিন্তু পরে কমে গিয়ে জুলাইয়ে প্রবাসী আয় এসেছিল ১৯১ কোটি ৩৭ লাখ ডলার।
২০২৪ সালের প্রথম সাত মাসে প্রবাসী আয় কমার একমাত্র কারণ জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা। তখন তারা বলেছিলেন, বৈষম্যবিরোধী এই আন্দোলনে অনেক প্রবাসী তাদের কষ্টের অর্থ না পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন। শেখ হাসিনা সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত প্রবাসী আয় না পাঠাতে ক্যাম্পেইনও করেছিলেন তারা। গত বছরের ৫ আগস্টে শেখ হাসিনা ভারতে চলে যান। ঠিক তিনদিন পর ওই বছরের ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে শপথ নেন অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। এরপর সেইসব প্রবাসীরা তাদের দেওয়া কথা অনুসারে কষ্টের অর্থ দেশে পাঠানো শুরু করে। এই ধারায় ওই বছরের শেষ পাঁচ মাসে বেশ ভাল পরিমাণ অর্থ পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। সেই পাঠানোর ধারা চলতি বছরেও অব্যাহত ছিল। এর ফলে গত বছরের তুলনায় চলতি বছরে প্রবাসী আয় বেড়েছে ২০ দশমিক ২৮ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ১২ মাসে (জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর) প্রবাসী আয় এসেছে তিন হাজার ২৩৪ কোটি ২০ লাখ ৭০ হাজার ডলার। এর মধ্যে ডিসেম্বরের প্রথম ২৭ দিনে প্রবাসী আয় এসেছিল ২৭৫ কোটি ১৯ লাখ ১০ হাজার ডলার, নভেম্বরে ২৮৮ কোটি ৯৪ লাখ ৯০ ডলার, অক্টোবরে ২৫৬ কোটি ২৪ লাখ ৪০ লাখ ডলার, সেপ্টেম্বরে ২৬৮ কোটি ৫৫ লাখ ৬০ হাজার ডলার, আগস্টে ২৪২ কোটি ১৮ লাখ ৯০ হাজার এবং জুলাইয়ে ২৪৭ কোটি ৭৮ লাখ ৭০ হাজার ডলার।
এর আগের বছর জানুয়ারিতে প্রবাসী আয় এসেছিল ২১৮ কোটি ৫২ লাখ ৩০ হাজার ডলার, ফেব্রুয়ারিতে ২৫২ কোটি ৭৬ লাখ ৫০ ডলার, মার্চে ৩২৯ কোটি ৫৬ লাখ ৩০ হাজার ডলার, এপ্রিলে ২৭৫ কোটি ২৩ লাখ ৩০ হাজার ডলার, মে মাসে ২৯৬ কোটি ৯৫ লাখ ৬০ হাজার ডলার এবং জুনে ২৮২ কোটি ২৫ লাখ ৩০ হাজার ডলার।
দুই ঈদ উপলক্ষে প্রবাসীরা বেশি অর্থ পাঠানোর ফলে মার্চ, মে ও জুনে প্রবাসী আয় বেড়েছে জানিয়ে পাঁচ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রতিবছরই ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা সামনে রেখে দেশে প্রবাসীরা বেশি অর্থ পাঠান। চলতি বছরের প্রবাসী আয় পাঠানোতে মার্চ, মে ও জুনে তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। এর ফলে এবারের মার্চ মাস প্রবাসী আয়ে শীর্ষ ছিল। পরে প্রবাসী আয়ের শীর্ষ অবস্থানে ছিল মে ও জুন মাস। বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা বলেছেন, রেমিট্যান্সে ডলারের ক্ষেত্রে অনানুষ্ঠানিক চ্যানেলের সঙ্গে ব্যাংকের দরে পার্থক্য কমে এসেছে। আবার বর্তমান পরিস্থিতিতেও বাংলাদেশ ব্যাংক রেমিট্যান্স বাড়াতে অনেক চেষ্টা করছে। ব্যাংকগুলো প্রবাসীদের উৎসাহিত করছে, এতে প্রবাসী আয় বাড়ছে।
প্রবাসী আয় দেশের ডলার জোগানের একমাত্র দায়বিহীন উৎস জানিয়ে অর্থনীতিবিদরা বলেন, কারণ এই আয়ের বিপরীতে কোনো বিদেশি মুদ্রা ব্যয় করতে হয় না। পাশাপাশি কোনো দায় পরিশোধ করতে হয় না। রপ্তানি আয়ে ডলার এলে কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতি আমদানি করতে ডলার ব্যয় হয়। অন্যদিক বিদেশি ঋণ শোধে ডলারের প্রয়োজন হয়। ফলে প্রবাসী আয় যত বাড়বে দেশে ডলারের সংকট তত কমবে। একই সঙ্গে আমাদের রিজার্ভ শক্তিশালী হবে।
প্রবাসী আয়ের প্রবৃদ্ধি হয়েছে জানিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, বৈধ পথে প্রবাসীদের টাকা পাঠাতে সচেতনতা বাড়ানোর কারণে এখন হুন্ডি বা অবৈধভাবে টাকা পাঠানোর প্রবণতা কমেছে। এতে প্রবাসী আয়ে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে এবার। একইসঙ্গে বেড়েছে রিজার্ভও।
এদিকে, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত বছরের ১৪ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব নেন বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর। দায়িত্ব নিয়েই তিনি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেন। এর মধ্যে অন্যতম ছিল ডলার সংকট কাটাতে আন্তঃব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনে বিদ্যমান ব্যান্ড এক শতাংশ থেকে বাড়িয়ে আড়াই শতাংশ করা। এতে বিনিময় হার নির্ধারণের ক্রলিং পেগ ব্যবস্থায় ডলারের মধ্যবর্তী দাম ১১৭ থেকে সর্বোচ্চ ১২০ টাকা পর্যন্ত বাড়ায় ব্যাংকগুলো। প্রণোদনা দিয়ে ব্যাংকগুলো গত বছরের শেষে ১২২ টাকায় ডলার কিনেছিল। সেই ডলার এখন ১২২ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ১২৩ টাকায় কেনা হচ্ছে। প্রবাসীরা এখন অনেক সচেতন জানিয়ে গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলছেন, তাদের ব্যাংক চ্যানেলের মাধ্যমে অর্থ পাঠানোর প্রবণতা ধীরে ধীরে বাড়ছে। এতে দেশে প্রবাসী আয়ে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। অতীতের চেয়ে এখন প্রবাসী আয় বেড়েছে। রিজার্ভও বেড়েছে।
এক নজরে চলতি বছরে প্রবাসী আয়ের চিত্র
চলতি ডিসেম্বরের প্রথম ২৭ দিনে প্রবাসী আয় এসেছে ২৭৫ কোটি ১৯ লাখ ১০ হাজার ডলার। গত বছরের ডিসেম্বরে প্রবাসী আয় এসেছিল ২৬৩ কোটি ৮৭ লাখ ৮০ হাজার ডলার। সে হিসাবে ডিসেম্বরের বেড়েছে রেমিট্যান্স প্রবাহ। গত ডিসেম্বরের প্রথম ২৭ দিনে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে প্রবাসী আয় এসেছে ১৯৯ কোটি ২২ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৪৬ কোটি ৩৫ লাখ ৯০ হাজার ডলার এবং বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ২৯ কোটি এক লাখ ৬০ হাজার ডলার। এছাড়া বিদেশি ব্যাংকগুলোর শাখার মাধ্যমে প্রবাসী আয় এসেছে ৫৯ লাখ ২০ হাজার ডলার।
নভেম্বরে প্রবাসী আয় এসেছিল ২৮৮ কোটি ৯৪ লাখ ৯০ হাজার ডলার। গত বছরের (২০২৪ সাল) নভেম্বরে প্রবাসী আয় এসেছিল ২১৯ কোটি ৯৯ লাখ ৯০ হাজার ডলার। গত নভেম্বরে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে প্রবাসী আয় এসেছে ১৯৯ কোটি ৬৮ লাখ ৭০ হাজার মার্কিন ডলার, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৫৮ কোটি ৭৭ লাখ ৬০ হাজার ডলার এবং বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ২৯ কোটি ৮৯ লাখ ৫০ হাজার ডলার। এছাড়া বিদেশি ব্যাংকগুলোর শাখার মাধ্যমে প্রবাসী আয় এসেছে ৫৯ লাখ ৪০ হাজার ডলার।
অক্টোবরে প্রবাসী আয় এসেছিল ২৫৬ কোটি ২৪ লাখ ৪০ হাজার ডলার। গত বছরের অক্টোবরে প্রবাসী আয় এসেছিল ২৩৯ কোটি ৫০ লাখ ৮০ হাজার ডলার। গত অক্টোবরে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে প্রবাসী আয় এসেছে ১৮৩ কোটি ৮৬ লাখ ৯০ হাজার মার্কিন ডলার, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৪৭ কোটি ৭৮ লাখ ৭০ হাজার ডলার এবং বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ২৪ কোটি দুই লাখ ৫০ হাজার ডলার। এ ছাড়া বিদেশি ব্যাংকগুলোর শাখার মাধ্যমে প্রবাসী আয় এসেছে ৬৬ লাখ ৭০ হাজার ডলার।
সেপ্টেম্বরে প্রবাসী আয় এসেছিল ২৬৮ কোটি ৫৫ লাখ ৬০ হাজার ডলার। গত বছরের সেপ্টেম্বরে প্রবাসী আয় এসেছিল ২৪০ কোটি ৪১ লাখ ১০ হাজার ডলার। গত সেপ্টেম্বরে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে প্রবাসী আয় এসেছে ১৯৫ কোটি ৪৬ লাখ ১০ হাজার ডলার, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৪৬ কোটি ৬৮ লাখ ১০ হাজার ডলার ও বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ২৫ কোটি ৮২ লাখ ১০ হাজার ডলার। এ ছাড়া বিদেশি ব্যাংকগুলোর শাখার মাধ্যমে প্রবাসী আয় এসেছে ৬২ লাখ ৪০ হাজার ডলার।
আগস্টে প্রবাসী আয় এসেছিল ২৪১ কোটি ১৮ লাখ ৯০ হাজার ডলার। গত বছরের আগস্টে প্রবাসী আয় এসেছিল ২২২ কোটি ৪১ লাখ ৫০ হাজার ডলার। গত আগস্টে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে প্রবাসী আয় এসেছে ১৪৫ কোটি ৭১ লাখ ২০ হাজার ডলার, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৪৮ কোটি ১৯ লাখ ১০ হাজার ডলার ও বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ২৭ কোটি ৯৮ লাখ ১০ হাজার ডলার। এছাড়া বিদেশি ব্যাংকগুলোর শাখার মাধ্যমে প্রবাসী আয় এসেছে এক কোটি এক লাখ ৫০ হাজার ডলার।
জুলাইয়ে প্রবাসী আয় এসেছিল ২৪৭ কোটি ৭৮ লাখ ৭০ হাজার ডলার। গত বছরের জুলাইয়ে প্রবাসী আয় এসেছিল ১৯১ কোটি ৩৭ লাখ ৭০ হাজার ডলার। গত জুলাইয়ে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে প্রবাসী আয় এসেছে ১৬৮ কোটি ৯৭ লাখ ৬০ হাজার ডলার, রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৫৪ কোটি ৭৬ লাখ ৩০ হাজার ডলার এবং বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ২২ কোটি ৯২ লাখ ২০ হাজার ডলার। এছাড়া বিদেশি ব্যাংকগুলোর শাখার মাধ্যমে প্রবাসী আয় এসেছে এক কোটি ১৩ লাখ ডলার।
জুনে প্রবাসী আয় এসেছিল ২৮২ কোটি ২৫ লাখ ৩০ হাজার ডলার। গত বছরের জুনে প্রবাসী আয় এসেছিল ২৫৩ কোটি ৮৬ লাখ ডলার। এ সময়ের তুলনায় প্রবাসী আয় বেড়েছে ১১ দশমিক ১৮ শতাংশ।
মে মাসে প্রবাসী আয় এসেছিল ২৯৬ কোটি ৯৫ লাখ ৬০ হাজার ডলার। গত বছরের মে মাসে প্রবাসী আয় এসেছিল ২২৫ কোটি ৪৯ লাখ ৩০ হাজার ডলার। এ সময়ের তুলনায় প্রবাসী আয় বেড়েছে ১১ দশমিক ১৮ শতাংশ। পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে প্রবাসীরা বেশি অর্থ পাঠানোর ফলে মে ও জুনে প্রবাসী আয় বেড়েছে।
এপ্রিলে প্রবাসী আয় এসেছিল ২৭৫ কোটি ২৩ লাখ ৩০ হাজার ডলার। গত বছরের এপ্রিলে প্রবাসী আয় এসেছিল ২০৪ কোটি ৪২ লাখ ৩০ হাজার ডলার। গত এপ্রিলে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে প্রবাসী আয় এসেছে ১৬১ কোটি ১০ লাখ ১০ হাজার মার্কিন ডলার। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৯৮ কোটি ৮৪ লাখ ৫০ হাজার ডলার এবং বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ১৪ কোটি ৬৫ লাখ ১০ হাজার ডলার। এছাড়া বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে দেশে প্রবাসী আয় এসেছে ৫৯ লাখ ৮০ হাজার ডলার।
মার্চে প্রবাসী আয় এসেছিল ৩২৯ কোটি ৫৬ লাখ ৩০ হাজার ডলার। যা দেশের ইতিহাসে যে কোনো এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে প্রবাসীরা বেশি অর্থ পাঠানোর ফলে মার্চে প্রবাসী আয় বেড়েছে। গত বছরের মার্চে প্রবাসী আয় এসেছিল ১৯৯ কোটি ৭০ লাখ ৭০ হাজার ডলার। গত মার্চে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে প্রবাসী আয় এসেছে ২২৩ কোটি ২২ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার। এছাড়া রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৭৫ কোটি সাত লাখ ১০ হাজার ডলার, বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ৩০ কোটি ১০ লাখ ৫০ হাজার ডলার এবং বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ৫৯ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার।
ফেব্রুয়ারিতে প্রবাসী আয় এসেছিল ২৫২ কোটি ৭৬ লাখ ৫০ হাজার ডলার। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রবাসী আয় এসেছিল ২১৬ কোটি ৪৫ লাখ ৬০ হাজার ডলার। গত ফেব্রুয়ারিতে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে প্রবাসী আয় এসেছে ১৪২ কোটি ৩৮ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার। এছাড়া রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৮৯ কোটি ৫৭ লাখ ৮০ হাজার ডলার, বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ২০ কোটি ২১ লাখ ৫০ হাজার ডলার এবং বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ৫৮ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার।
জানুয়ারিতে প্রবাসী আয় এসেছিল ২১৮ কোটি ৫২ লাখ ৩০ হাজার ডলার। গত বছরের জানুয়ারিতে প্রবাসী আয় এসেছিল ২১১ কোটি ৩১ লাখ ৫০ হাজার ডলার। গত জানুয়ারিতে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে প্রবাসী আয় এসেছে ১৫৫ কোটি ১৫ লাখ ৭০ হাজার মার্কিন ডলার। এছাড়া রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৫১ কোটি ১১ লাখ ৩০ হাজার ডলার, বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ১১ কোটি ৬০ লাখ ৪০ হাজার ডলার এবং বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ৬৪ লাখ ৯০ হাজার মার্কিন ডলার।

মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান