হেয়ারকাট প্রত্যাহার ও আমানত ফেরতের দাবিতে মানববন্ধন
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের ওপর আরোপিত ‘হেয়ারকাট’ সিদ্ধান্তকে প্রত্যাহারের দাবিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগী আমানতকারীরা।
আজ রোববার (এনবিআর) সকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে শতাধিক আমানতকারী এই মানববন্ধনে অংশ নেন। এ সময় তারা ২০২৪ ও ২০২৫ সালের মুনাফায় কাটছাঁটের সিদ্ধান্ত বাতিল, সব হিসাবের টাকা মুনাফাসহ ফেরত ও ব্যাংকের স্বাভাবিক লেনদেন কার্যক্রম চালুর দাবি জানান।
মানববন্ধনে তারা বলেন, আগামী ৩১ জানুয়ারির মধ্যে হেয়ারকাট বাতিল ও সব হিসাবের টাকা মুনাফাসহ ফেরতের কার্যকর প্রক্রিয়া শুরু না হলে সারাদেশের সব শাখায় একযোগে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
আমানতকারীরা অর্থ উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের প্রতি আহ্বান জানান, আমানতকারীদের ওপর চাপানো এই সিদ্ধান্ত বাতিল করে ব্যাংক ব্যবস্থায় আস্থা ফেরাতে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে।
ব্যাংক ব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা ধ্বংস হচ্ছে জানিয়ে মানববন্ধনে অংশ নেওয়া এক আমানতকারী বলেন, আমাদের কী দোষ? কেন মুনাফা কম দিবে। জীবনের সব টাকা ব্যাংকে রেখেছি, এটা তাহলে পাপ করেছি। তিনি বলেন, আমার এক ছেলে ও এক মেয়ে। তারা বড় হয়েছে, তাদের সংসার নিয়ে তারা এখন ব্যস্ত। সংসার চালাতে তারাই হিমশিম খাচ্ছে। বাবা-মাকে কীভাবে বরণ পোষণ করবে। এতোদিন ব্যাংক থেকে যে মুনাফা পেতাম তা দিয়ে কোনো মতে চলে যেত। এখন সেই মুনাফার অর্ধেকের কম দিবে। এখন ভেবে পাচ্ছি না, কোনো কিছু মাথায় ঢুকে না। বাঁচবো কীভাবে!
আরেক আমানতকারী বলেন, পেনশনের টাকার মুনাফা দিয়েই সংসার চলত। হাতে যা ছিল টেনেটুনে কোনো রকম সংসার চালিয়েছি। এখন শুনছি গত দুই বছরের মুনাফা কেটে নেওয়া হবে। এখন আমার চলবে কীভাবে।
সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছে এমন অভিযোগ আরও অনেক আমানতকারীর।
মানববন্ধনে আমানতকারীরা ছয় দফা দাবি তুলে ধরেন। এগুলো হলো- সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ২০২৪ ও ২০২৫ সালের মুনাফায় হেয়ারকাট বাতিল, সব ধরনের হিসাবের টাকা মুনাফাসহ নগদায়নের সুযোগ দেওয়া, এফডিআর ও ডিপিএস ভাঙার অধিকার নিশ্চিত করা, নতুন ও পুরোনো আমানতকারীদের সমান অধিকার প্রদান, ধাপে ধাপে পুরো আমানত ফেরতের সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণা এবং আরটিজিএস, ইএফটি, এটিএমসহ সব ধরনের অনলাইন সেবা চালু করা।

নিজস্ব প্রতিবেদক