ডাকসুতে লাইট বন্ধ করে ছাত্রলীগের হামলা, ভিপিসহ আহত ২০
এবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভেতরে তাণ্ডব চালিয়েছে ছাত্রলীগ। সঙ্গে ছিল মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। আজ রোববার দুপুরে একেবারে লাইট বন্ধ করে রড, লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালানো হয় ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নুর ও তাঁর ছাত্রসংগঠন সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতাকর্মীদের ওপর।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ভিপি নুরসহ অন্তত ১৫ জনের মতো আহত হয়েছেন। আহতদের প্রক্টরিয়াল টিমের সহায়তায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে প্রক্টর অধ্যাপক গোলাম রব্বানী সাংবাদিকদের বলেন, ‘এখন কিছু বলতে পারব না। কিছু বহিরাগত আহত হয়েছে বলে শুনেছি। তা ছাড়া ভিপি নুরসহ তাঁর নেতাকর্মীরা যে ডাকসুতে এসেছে, সেটা আমাদের জানায়নি।’
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল ও সাধারণ সম্পাদক আল মামুনের নেতৃত্বে প্রায় ২০ থেকে ২৫ জন এবং ছাত্রলীগের ঢাবি শাখার সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস ও সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসাইনের গ্রুপের শতাধিক নেতাকর্মী রড, লাঠিসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সকাল সাড়ে ১১টা থেকে মধুর ক্যান্টিন এলাকায় অবস্থান নেয়।
দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ভিপি নুরসহ তাঁর সংগঠন সাধারণ ছাত্র পরিষদের নেতাকর্মীরা ডাকসু কার্যালয়ে অবস্থান নেন। এর কিছুক্ষণ পর পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন ডাকসু থেকে বের হলে তাঁর ওপর অতর্কিতে হামলা চালায় নেতাকর্মীরা। এ সময় মামুন ডাকসুতে গিয়ে অবস্থান নেন। তখন মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ডাকসু কার্যালয়ে অবস্থানরত নুরসহ প্রায় ২০ জনের দিকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। নেতাকর্মীরা প্রায় ২০ মিনিট তাণ্ডব চালিয়ে ডাকসুর জানালার গ্লাস, দরজা ভাঙচুর করে।
দুপুর ১টার দিকে ঢাবি ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস ও সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসাইন ডাকসুতে প্রবেশ করেন। তাঁরা সেখানে গিয়ে ভিপি নুরসহ তাঁদের নেতাকর্মীদের ডাকসু কার্যালয় ত্যাগ করার অনুরোধ জানান। কিন্তু নুরসহ অন্যরা তাঁদের উপেক্ষা করে ডাকসুতেই অবস্থান করেন। এ সময় সনজিত ও সাদ্দাম ছাত্র পরিষদের ১২ জনের মতো নেতাকর্মীকে এক এক করে বের করে দেন।
কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা মতে, ডাকসু থেকে যখন কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতারা এক এক করে বের হচ্ছিলেন, তাঁদের মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা রড, লাঠি দিয়ে মারধর করেন। এভাবে তাঁরা প্রায় ১৫ জনকে মারধর করে আহত করেন। তাঁদের অন্যরা উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।
এদিকে, তাঁদের বের করে দেওয়ায় ছাত্রলীগ ও নুরদের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। তখন নুর সনজিতকে লক্ষ্য করে বলেন, ‘আপনি ডাকসুর কেউ না, এখান থেকে যান।’ পরে সনজিত ও সাদ্দামসহ ডাকসুর সদস্য রাকিবুল ইসলাম ঐতিহ্য বাইরে চলে আসেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা মতে, কিছু পরেই সনজিত ও সাদ্দাম ছাত্রলীগ ও মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের নেতাকর্মীদের নিয়ে ডাকসুর কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। এ সময় সনজিত তাঁদের মারধর করার নির্দেশ দেন। এর পরক্ষণেই নেতাকর্মীরা ডাকসু কার্যালয়ে প্রবেশ করে লাইট অফ করে দিয়ে নুরসহ তাঁদের নেতাকর্মীদের ওপর রড, লাঠিসহ দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়।
হামলায় নুরের মাথা ফেটে যায় এবং জ্ঞান হারান। তাঁর সঙ্গে থাকা মোহাম্মাদ রাশেদ খানও সংজ্ঞা হারান। এ সময় হাসান আল মামুন, পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক হোসেন, সোহেল খান, ইমরান হোসেন, নাজমুল হাসান, জাহিদ হোসেন, বিপ্লব, সুমন, আমিনুল ইসলাম, মেহেদী হাসান, আরিফুল ইসলাম, মশিউর রহমান, সানা উল্লাহ, রফিকুল ইসলামসহ আরো অনেকেই আহত হন।
হামলার পর ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানী। এ সময় প্রক্টর ভিপি নুরুল হক নুরসহ অন্যদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন। তখন ডাকসু কার্যালয়ের ভেতরে সাংবাদিকদের প্রবেশ করেত বাধা দেন প্রক্টর। প্রক্টর ঘটনাস্থলে আসার প্রায় আধা ঘণ্টা পর ভিপি নুর, হাসান আল মামুন, রাশেদ, ফারুখসহ মোট ছয়জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
অভিযোগের বিষয়ে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন বলেন, ‘ভিপি নুর ছাত্রদল-শিবিরের নেতাকর্মীদের নিয়ে ভেতরে মিটিং করছিল। খবর পেয়ে আমরা ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাদের প্রতিরোধ করি।’
ঢাবি ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস বলেন, ‘বহিরাগত শিবির ক্যাডারদের নিয়ে ক্যাম্পাসে হামলা ও অস্থিতিশীল করতে চেয়েছিল নুর। সচেতন শিক্ষার্থী ও মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ তাদের সমুচিত জবাব দিয়েছে।’

বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতা