বিদ্যুৎ-পানি নেই হলে, কুবি ভিসির বাসভবন অবরোধে ছাত্রীরা
বিদ্যুৎ ও পানির সংকট নিরসন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের এক প্রকৌশলীর মাফ চাওয়াসহ ছয়টি দাবিতে উপাচার্যের বাসভবন অবরোধ করেছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী হলের শিক্ষার্থীরা। আজ শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে প্রায় সাড়ে ৭টা পর্যন্ত তারা উপাচার্য বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন।
শিক্ষার্থীদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে পানি ও বাসস্থান সমস্যার সমাধান, ওয়াইফাইয়ের গতি বাড়ানো, হলে ক্যান্টিন ব্যবস্থা চালু করা, ডাইনিংয়ে খাবারের নিম্নমানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া ও খাবারে ভর্তুকি নিশ্চিত করা, চলমান বিদ্যুৎ সংকট দ্রুত ঠিক করা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাকির হোসেনের ক্ষমা চাওয়া।
শিক্ষার্থীরা জানান, গত বুধবার রাত থেকে মেয়েদের নবাব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী হল, ছেলেদের বঙ্গবন্ধু হলের পুরাতন অংশ, শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হল ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল, উপাচার্যের বাসভবন, শিক্ষক-কর্মকর্তাদের ডরমিটরিসহ প্রায় সব ভবনেই বিদ্যুৎ সংকট দেখা দেয়। নবাব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী হলের শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাকির হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন৷
এ বিষয়ে লোপ্রশাসন বিভাগের ১০ম ব্যাচের শিক্ষার্থী কনক ইসলাম বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাকির হোসেনের সবার সামনে মাফ চাইতে হবে। উনাকে আমরা আমাদের সমস্যার কথা জানালে উনি সমাধানের চেষ্টা না করে উল্টো আমাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। এর আগেও আমরা তার দুর্ব্যবহারের শিকার হয়েছি।’
তবে শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা নাগাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. কাজী মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন উপাচার্যের বাসভবনের সামনে এসে শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিলে তারা এ অবরোধ তুলে নেন।
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাকির হোসেন শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চান। তবে ছাত্রীরা ক্ষমা ছাড়াও নির্দিষ্ট প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তার বিরুদ্ধে।
অবরোধ তুলে নেওয়ার ব্যাপারে ফয়জুন্নেসা হলের শিক্ষার্থী অপর্ণা নাথ বলেন, ‘উপাচার্য স্যার আমাদের সঙ্গে বসে পর্যায়ক্রমে সমস্যা সমাধানের কথা বলেছেন। আমরা আগামী রোববার স্যারের সঙ্গে বসব। যদি আমাদের সমস্যা দ্রুত শেষ না হয়, তাহলে আমরা প্রশাসনিক ভবনে তালা দিব।’
উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এফ এম আবদুল মঈন বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের হলে বিদ্যুৎ থাকবে না, এটা ভাবা যায় না। এটা খুবই বাজে পরিস্থিতি। আমার বাংলোতেও বিদ্যুৎ ছিল না, আইপিএসে শুধু লাইট জ্বলে। আমি নিজেও শাওয়ার নিতে পারিনি। আর অফিসিয়াল বিভিন্ন কাজও বাধাগ্রস্ত হয়েছে। আমি চিফ ইঞ্জিনিয়ারের সঙ্গে কথা বলেছি। এটা দ্রুত সমাধানে কাজ করছে তারা। আমরা বিদ্যুতের আরেকটি লাইন তৈরির কাজ করতে পারি কি না, তা ভেবে দেখব।’

কুবি সংবাদদাতা