রাবিতে শিবিরের ৪ নেতাকর্মীকে মারধর করে পুলিশে দিল ছাত্রলীগ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শহীদ হবিবুর রহমান হল শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ চার নেতাকর্মীকে আটক করে পুলিশে দিয়েছেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ সময় তাঁদের মারধর করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গতকাল সোমবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে তাঁদের পুলিশে তুলে দেয় ছাত্রলীগ। পুলিশ জানিয়েছে, নাশকতার পরিকল্পনা ছিল তাঁদের। আজ মঙ্গলবার তাঁদের আদালতে চালান দেওয়া হয়।
এদিকে, আজ বিকেলে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের রাবি শাখার সভাপতি মো. হাসান তারিক ও সাধারণ সম্পাদক মো. লাবিব আবদুল্লাহ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দলীয় নেতাকর্মীদের শারীরিক-মানসিক নির্যাতন ও হয়রানির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।
আটক ছাত্ররা হলেন শহীদ হবিবুর রহমান হল ছাত্রশিবিরের সভাপতি ও দর্শন বিভাগের স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থী আবু জাফর, সাধারণ সম্পাদক ও সমাজকর্ম বিভাগের স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম, বাইতুল মাল সম্পাদক ও ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থী এনামুল ইসলাম এবং কর্মী সমাজবিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আবদুল আলিম।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ছাত্রলীগ সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাত ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া ও সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু সাংগঠনিক কাজে বিশ্ববিদ্যালয়ের হবিবুর রহমান হলে যান। হলে শিবির আছে এমন তথ্যের ভিত্তিতে ১৪১ নম্বর কক্ষে থাকা আবদুল আলিমকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। আলিমের কাছে পাওয়া শিবিরের বিভিন্ন তথ্য ও নথি অনুসারে হল শাখা সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও অর্থ সম্পাদককে তাঁদের কক্ষ থেকে আটক করে ১৪১ নম্বর কক্ষে নেওয়া হয়। এ সময় তাঁদের কক্ষ থেকে শিবিরের বই, ক্যালেন্ডার, ডায়েরি, নোটপ্যাড, হল শিবিরের তহবিলের দুই হাজার ১০ টাকাসহ ওই হল শাখা শিবিরের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীর তালিকা পাওয়া যায়। আটকের পর তাঁদের মারধর করেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। পরে রাত ৩টার দিকে তাঁদের মতিহার থানা পুলিশে সোপর্দ করা হয়।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু বলেন, ‘আমাদের কাছে গোপন তথ্য ছিল। সেই তথ্যের ভিত্তিতে আমরা অভিযান চালাই। এ সময় জিহাদি বই, ক্যালেন্ডার, লিফলেট এবং ওই হলের শিবিরের কমিটির তালিকাসহ শিবির সংশ্লিষ্টতার নানা ধরনের তথ্য পাই। পরে তাদের ধরে আমরা রাত ৩টার দিকে পুলিশে তুলে দিই।’ শিবিরের নেতাকর্মীদের মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, তাঁদের মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি।
মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির বলেন, ‘শিবিরের চারজন নেতাকর্মীকে আটক করে আমাদের হাতে তুলে দিয়েছে ছাত্রলীগ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, তাদের নাশকতার পরিকল্পনার ছিল। তাই তাদের আদালতে চালান দেওয়া হয়েছে।’
এদিকে ছাত্রশিবিরের পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ হবিবুর রহমান হল থেকে গত সোমবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে শিবিরের চার কর্মীকে আটক করে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের পর পুলিশে সোপর্দ করেছে রাবি শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।’
বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, ছাত্রলীগের রাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক বিশ্ববিদ্যালয়ের বাতিলকৃত ছাত্র হওয়ায় এবং অধিকাংশ নেতৃবৃন্দ নিয়মিত ছাত্র না হওয়ায় তারা সাধারণ ছাত্রদের কল্যাণে কাজ করে না। তারা বিরোধী দল দমনে কর্মীদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি, নির্যাতন এবং হয়রানিসহ ক্ষমতার অপব্যবহার করছে। এর আগে সভাপতি গোলাম কিবরিয়া ও সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনুর বিরুদ্ধে শিবিরকর্মী রাসেলসহ অনেকের ওপর নির্যাতনের ভিডিও ফুটেজসহ অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন সময় অন্যায়ভাবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর অস্ত্রসহ হামলার ছবি ও ভিডিও ফুটেজ বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রচারিত হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের কল্যাণার্থে অবৈধ অস্ত্রধারী এই সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের মাধ্যমে সুষ্ঠু বিচার দাবি করা হয়। সেই সঙ্গে আইনের যথাযথ প্রয়োগ করার জন্য রাবি শিবিরের সভাপতি ও সেক্রেটারির পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হচ্ছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

রাবি সংবাদদাতা