জাবিতে অর্থমন্ত্রীর অনুষ্ঠানস্থলের সামনে বিক্ষোভ
সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বেতন-ফি পাঁচগুণ বাড়ানোর ঘোষণার প্রতিবাদে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) অর্থমন্ত্রীর অনুষ্ঠানস্থলের সামনে বিক্ষোভ করেছে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের নেতাকর্মীরা।
আজ শনিবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান মিলনায়তনের সামনে বিক্ষোভ করেন ছাত্রফ্রন্টের নেতাকর্মীরা। এ সময় ওই মিলনাতনের ভেতরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৬তম ব্যাচের প্রবেশিকা অনুষ্ঠান চলছিল। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।
সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অমর একুশে প্রাঙ্গণে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য দেন জাবি শাখা ছাত্রফ্রন্টের সভাপতি মাসুক হেলাল অনিক, দপ্তর সম্পাদক শহীদুল্লাহ শহীদ, সদস্য মুহাম্মদ দিদার প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, যে প্রত্যাশা নিয়ে এ দেশের আপামর জনতা জীবন বাজি রেখে দেশ স্বাধীন করেছে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঁচগুণ বেতন বৃদ্ধির ঘোষণা তার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। আমরা অর্থমন্ত্রীর এ ঘোষণা প্রত্যাখ্যান করছি। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় জনগণের ট্যাক্সের টাকায় চলে। এখানে সব ধরনের ব্যয় বহন করবে সরকার। অর্থমন্ত্রীর ঘোষণা বিশ্ববিদ্যালয় ধারণার পরিপন্থী।
বক্তারা আরো বলেন, পাকিস্তান আমলে শরীফ শিক্ষা কমিশন প্রস্তাব করেছিল- ‘টাকা যার শিক্ষা তার’। বাংলার ছাত্র সমাজ এটা মেনে নেয়নি। অর্থমন্ত্রী বেতন বৃদ্ধির যে ঘোষণা দিয়েছেন তাও ছাত্রসমাজ বাস্তবায়ন করতে দেবে না।
মানববন্ধন শেষে নেতাকর্মীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি জহির রায়হান মিলনায়তন হয়ে পরিবহন চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় অর্থমন্ত্রীর গাড়ি মিছিলটি অতিক্রম করে।
এ দিকে তিন দফা দাবিতে অর্থমন্ত্রীকে স্মারকলিপি দিয়েছে ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদ। তাদের দাবিগুলো হলো- অবিলম্বে টিউশন ফি পাঁচগুণ বৃদ্ধির ঘোষণা প্রত্যাহার, আগামী বাজেটে শিক্ষাখাতে মোট বাজেটের ২৫ ভাগ বরাদ্দ দেওয়া ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক অর্থ বরাদ্দ বৃদ্ধি করা।
৭.১৫ ভাগ প্রবৃদ্ধির আশা
অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সর্বোচ্চ অবস্থানে নিয়ে যাওয়া বর্তমান সরকারের একটি বড় স্বপ্ন। আশা করছি এবার আমাদের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭.১৫ শতাংশে উন্নীত হবে। দেশের ১৪ শতাংশ মানুষ এখনো গরিব, তাদের জন্য বর্তমান সরকার স্থায়ী কিছু করতে চায়। সমস্যা হলো অনেকেই টাকা নিয়ে বসে আছেন, কিন্তু সঠিক খাতে বিনিয়োগ করছেন না। তবে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকলে এ অবস্থার পরিবর্তন হবে।’ এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. ফারজানা ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদসহ আরো অনেকে।
অনুষ্ঠানে ৪৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের শপথবাক্য পাঠ করান উপাচার্য। এর আগে শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে স্বাগত জানানো হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতা