জাবিতে প্রশাসনিক ভবন অবরোধ তৃতীয় দিনে
শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের করা মামলা প্রত্যাহারসহ চারটি দাবিতে তৃতীয় দিনের মতো জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) প্রশাসনিক ভবন অবরোধ করা হয়েছে।
আজ বুধবার সকাল ৮টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
অবরোধের কারণে ভবনটিতে প্রবেশ করতে পারেননি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী।
এর আগে গত দুদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত প্রশাসনিক ভবন অবরোধ করে রাখেন শিক্ষার্থীরা। এই অবরোধের মুখে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম দৃশ্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।
চারটি দাবির মধ্যে রয়েছে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের করা মামলা প্রত্যাহার, তদন্ত কমিটি পুনর্গঠন, শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাকারী পুলিশের বিচার ও সড়ক নিরাপদ করা।
শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মধ্যে সমঝোতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে শিক্ষক সমিতি। তবে এখন পর্যন্ত উভয় পক্ষই অনড় অবস্থানে রয়েছে।
গত সোমবার রাতে প্রশাসন ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমস্যা সমাধানে ৩ আগস্ট একটি আলোচনা হবে বলে জানিয়েছিল শিক্ষক সমিতি। তবে শিক্ষার্থীরা অবরোধ প্রত্যাহার না করায় আলোচনার বিষয়টি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
এ ব্যাপারে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সহযোগী অধ্যাপক ফরিদ আহমেদ বলেন, ‘আলোচনার সম্ভাবনা এখনো আছে। আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’
মো. দিদার নামে আন্দোলনকারী এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আলোচনাকে আমরা সব সময় স্বাগত জানাই। তবে সেটা হতে হবে পূর্বনির্ধারিত কোনো শর্ত ছাড়া।’
গত ১৫ জুলাই মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে কয়েকজন শিক্ষার্থী আমরণ অনশন শুরু করেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মামলা তুলে নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে শিক্ষার্থীদের অনশন ভাঙান উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক আমির হোসেন। তবে মামলা নিষ্পত্তির আশ্বাস দিলেও এ ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
গত ২৭ মে সড়ক দুর্ঘটনায় দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার ঘটনায় মহাসড়ক অবরোধ ও উপাচার্যের বাসভবন ভাঙচুরের অভিযোগে ৫৬ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা মামলা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই সঙ্গে ঘটনা তদন্তে শিক্ষকদের নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রশাসন।

জাবি সংবাদদাতা
জাহিদুর রহমান