পাবিপ্রবি : মারধরের পর এবার শিক্ষকের অপসারণ দাবি!
দুদিন আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তাকর্মীদের হাতে মারধরের শিকার হন পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) শিক্ষক ড. এম আবদুল আলীম। এরই সূত্র ধরে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরাও ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হামলার শিকার হয়।
আজ রোববার কাজেও যোগ দেননি কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। মারধর ও হামলার পর এখন তাদের দাবি বিভিন্ন পদ থেকে আবদুল আলীমের অপসারণ!
ড. এম আবদুল আলীম পাবিপ্রবির কলা ও সামাজিক অনুষদের ডিন, বাংলা বিভাগের সভাপতি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম ‘রিজেন্ট বোর্ডে’র সদস্য।
কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দাবি, রিজেন্ট বোর্ড ও ডিনের পদ থেকে আবদুল আলীমের অপসারণ না করা পর্যন্ত কাজে যোগ দেবেন না তাঁরা।
পাবিপ্রবির কর্মকর্তা সমিতির সভাপতি জি এম শামসদ ফখরুল ও কর্মচারী সমিতির সভাপতি জামসেদ হোসেন পলাশ জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম ‘রিজেন্ট বোর্ড’ ও সামাজিক অনুষদ বিভাগের ডিন পদ থেকে ড. আবদুল আলীমকে অপসারণ না করা পর্যন্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট অব্যাহত রাখবেন।
গতকাল শনিবার রাতে স্থানীয় সংসদ সদস্য (এমপি) গোলাম ফারুক প্রিন্সের সঙ্গে জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উপাচার্য অধ্যাপক ড. আল নকীব চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা বিষয়ক বিশেষ কমিটির আহ্বায়ক বেলায়েত আলী বিল্লুসহ অন্যান্য সদস্য ও সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। ওই সভায় কর্মকর্তা কর্মচারীদের কাজে যোগদানের আহ্বান জানানো হলেও রোববার তাঁরা কাজে যোগ দেননি।
বাংলা বিভাগের সভাপতি ড. এম আবদুল আলীম বলেন, ‘আমার ওপর হামলা হয়েছে এমন খবর পেয়ে ক্ষিপ্ত হয়েই শিক্ষার্থীরা শনিবার একাডেমিক ভবনের সামনে অবস্থান নিয়েছিল।’ তিনি বলেন, ‘আমাকে জড়িয়ে যে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা বা ভিত্তিহীন। এ ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা নেই।’
জেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা বিষয়ক বিশেষ কমিটির আহ্বায়ক ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বেলায়েত আলী বিল্লু বলেন, ‘পাবনা সদর আসনের এমপি গোলাম ফারুক প্রিন্স আজ দেশের বাইরে যাওয়ায় এবং তিনি দেশে না ফেরা পর্যন্ত সবাইকে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।’
পাবিপ্রবির প্রক্টর আওয়াল কবির জয় বলেন, ‘কর্মকর্তা-কর্মচারীরা শিক্ষক ড. আবদুল আলীমের সঙ্গে অসদাচরণ করার ঘটনাকে কেন্দ্র করেই উদ্ভূত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।’ তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে বলে দাবি করেন প্রক্টর।
পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস জানান, পাবিপ্রবির অবস্থা এখন শান্ত।
গতকাল শনিবার কর্মচারীর হাতে শিক্ষক লাঞ্ছনার ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাবিপ্রবির শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কর্মচারীদের দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহত হন ২০ জন।
গত শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম বর্ষ ভর্তি পরীক্ষা চলাকালে কলা ও সামাজিক অনুষদের ডিন আবদুল আলীমের সঙ্গে গেটের নিরাপত্তাকর্মীদের বাগবিতণ্ডা হয়। এর জের ধরে নিরাপত্তা কর্মীরা সংঘবদ্ধ হয়ে ওইদিন সন্ধ্যায় ক্যাম্পাস চত্বরে ড. আলীমকে মারধর করেন।
শিক্ষককে মারধর ও লাঞ্ছিত করার খবর জানতে পেরে শিক্ষার্থীরা শনিবার বেলা ১১টার দিকে ক্যাম্পাসের প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ সভা করে। এ সময় কয়েকজন শিক্ষকও ছাত্রদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে শিক্ষার্থীদের পাশে অবস্থান নেয়। এ খবর পেয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে অবস্থানকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় ছাত্র শিক্ষকরা তাঁদের প্রতিহত করতে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে ২০ জন আহত হয়। ভাঙচুর করা হয় অন্তত ৩০টি মোটরসাইকেল ও প্রশাসনিক ভবনের জানালার কাঁচ। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে।

এ বি এম ফজলুর রহমান, পাবনা