৩ ছাত্রীর বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ থেকে সরলেন সেই ছাত্র
তিন ছাত্রীর বিরুদ্ধে ডেকে নিয়ে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ আনলেও তা থেকে সরে এসেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) চারুকলা বিভাগের সেই ছাত্র।
গতকাল রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগে তিন ছাত্রী ও দুই ছাত্রের বিরুদ্ধে আপত্তিজনকভাবে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় হাতাহাতির মাধ্যমে যৌন নিপীড়ন ও মারধরের অভিযোগ করেছিলেন ওই ছাত্র। এ ব্যাপারে গণমাধ্যমে খবর বের হলে তা নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
তবে আজ সোমবার এমন অভিযোগ থেকে সরে এসেছেন অভিযোগকারী ওই ছাত্র। আজ তিনি চারুকলা বিভাগের সভাপতি বরাবরে নতুন একটি লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। তবে অভিযোগের শুরুতে ২৩ নভেম্বর লিখেছেন। এতে তিনি যৌন নিপীড়নের কথা বাদ দিয়ে মানসিক ও শারীরিক লাঞ্ছনা, অশ্লীল কথাবার্তা বলার মাধ্যমে ভীষণ মানসিক চাপে ফেলা ও মারধরের কথা উল্লেখ করেছেন।
যৌন নিপীড়নের অভিযোগ থেকে সরে আসার ব্যাপারে জানতে চাইলে ওই ছাত্র বলেন, ‘তারা আমার গায়ে হাত তুলেছে, মারধর করেছে, বিভিন্ন অশ্লীল কথাবার্তা বলেছে, অপমান করেছে। আসলে আমি বুঝতে পারছিলাম না এটাকে কী বলা যায়, যৌন নিপীড়ন নাকি লাঞ্ছনা। তাই নতুন করে বিভাগের সভাপতির কাছে অভিযোগ দিয়েছি।’
গত ২২ নভেম্বর ঘটনাটি ঘটলেও গতকাল রোববার প্রক্টর বরাবরে লিখিত অভিযোগ দেন ওই ছাত্র। আজ বিভাগীয় সভাপতি বরাবর অভিযোগ দিলেও তাতে ২৩ নভেম্বর লিখেছেন।
এদিকে মারধরের কথা অস্বীকার করেছেন অভিযুক্তরা। তবে একজন অভিযুক্ত এ প্রতিবেদকের কাছে স্বীকার করেছেন, অভিযোগকারী ছাত্রের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। পরে চোখে পানি ছিটিয়ে জ্ঞান ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হয়। তবে কোনো ধরনের শারীরিক-মানসিক নিপীড়নের কথা অস্বীকার করেছেন ওই অভিযুক্ত।
ঘটনার সময় উপস্থিত থাকা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অন্য একজন শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, ঘটনার সময় অভিযোগকারী ছাত্রকে ‘ধমকাধমকি করা হয়েছিল। তবে কোনো ধরনের মারধর বা আঘাত করা হয়নি।'
এদিকে অভিযোগকারী ওই ছাত্রের বিরুদ্ধে প্রক্টর বরাবর পাল্টা অভিযোগ দিয়েছেন চারুকলা বিভাগের ৪৪তম আবর্তনের শিক্ষার্থীরা। ওই ছাত্রের বিরুদ্ধে কয়েকজন ছাত্রীকে অশালীন অঙ্গভঙ্গি এবং আপত্তিকর দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ তোলা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে তাঁরা উল্লেখ করেন, ‘ওই ছাত্র মাদকাসক্ত। তাই সে ছাত্রীদের সাথে প্রায়ই এ রকম অসংলগ্ন আচরণ করত। এ কারণে আমরা ওই দিন তাকে ডেকে নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলতে চাই কিন্তু সে আমাদের সঙ্গে অস্বাভাবিক আচরণ করে।’
এসব বিষয়ে প্রক্টর অধ্যাপক তপন কুমার সাহা বলেন, ‘ওই ছাত্রের সাথে আমার ফোনে কথা হয়েছে। সে আমাকে যৌন নিপীড়নের কথা বলেনি। মারধরের কথা বলেছে। চারুকলা বিভাগের চেয়ারম্যানকে বিষয়টা জানিয়েছি। বিভাগেই তারা এটা সমাধান করবে।’
চারুকলা বিভাগের সভাপতি সহকারী অধ্যাপক এম এম ময়েজ উদ্দীন এ ব্যাপারে বলেন, ‘আমার কাছে আজ যে অভিযোগ এসেছে সেখানে যৌন নিপীড়নের কথা বলা নেই। মারধর, শারীরিক-মানসিক লাঞ্ছনার কথা বলা আছে। বিভাগীয় ছাত্র উপদেষ্টা বিষয়টা নিয়ে কাজ করছেন। অলরেডি তদন্ত শুরু করে দিয়েছেন। ১৩ অভিযুক্তকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।’

জাবি সংবাদদাতা