ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ডাক কোটা আন্দোলনকারীদের
হামলা ও মারধরের পর আগামীকাল থেকে সারা দেশে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ডাক দিয়েছেন কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা।
আজ শনিবার বেলা ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের পূর্বঘোষিত সংবাদ সম্মেলনে বাধা দিয়ে ব্যাপক মারধর করা হয়। এতে ১০ জনের মতো আহত হন।
আহতরা অভিযোগ করেছেন, হামলাকারীরা ছাত্রলীগের নেতাকর্মী।
তবে হামলা ও মারধরের ব্যাপারে ছাত্রলীগের নেতাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এর পর পরই কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের সংগঠন বাংলাদেশ সাধারণ অধিকার ছাত্র সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খান বলেন, ‘সংবাদ সম্মেলনে বাধা ও হামলার প্রতিবাদে আগামীকাল থেকে সব বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা করা হয়েছে এবং সারা দেশে বিক্ষোভ অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হবে।’
প্রত্যক্ষদর্শী ও কোটা আন্দোলনকারীরা জানান, আজ বেলা ১১টায় সংবাদ সম্মেলন করার ঘোষণা দিয়েছিল কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা। সে জন্য আন্দোলনকারীরা নির্দিষ্ট সময়ের কিছু আগেই কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে জড়ো হন। এ সময় সেখানে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি, বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতাকর্মীরাও আসেন। এ সময় সেখানে গণমাধ্যমকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, সংবাদ সম্মেলন শুরুর আগে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে আন্দোলকারীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। কয়েকজনকে লাইব্রেরির সামনে রাস্তায় ফেলে পিটানোর দৃশ্যও দেখা যায় সেই ভিডিওতে।
হলে হলে তল্লাশির অভিযোগ
এ দিকে দুপুর ১টার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলে হলে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। মূলত যারা আজকে কোটা সংস্কার আন্দোলনের সঙ্গে ছিলেন তাদেরই টার্গেট করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, দুপুরে সূর্য সেন হল, কবি জসীম উদ্দিন হল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল, মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল, হাজি মোহাম্মাদ মুহাসিন হলসহ বিভিন্ন হলে তল্লাশি চালানো হয়।
ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নেতৃত্বে এই তল্লাশি চলছে বলে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা দাবি করলেও এ ব্যাপারে ছাত্রলীগ নেতাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলার রব্বানীকে একাধিকবার কল দিলেও তিনি ফোন ধরেননি।
এ বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন শিক্ষার্থীরা। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত ৯ এপ্রিল সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করে ৭ মে পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত করেন আন্দোলনকারীরা। পরে প্রধানমন্ত্রী সংসদে কোটা বাতিলের ঘোষণা দেন। আন্দোলনকারীরা এজন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে আনন্দ মিছিলও করে। কিন্তু সেই প্রজ্ঞাপন এখনো প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি।
আজ নতুন করে কর্মসূচি ঘোষণার জন্য সংবাদ সম্মেলনের প্রস্তুতির মুহূর্তেই এ হামলার ঘটনা ঘটে।

বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতা